• রামপুরহাটে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের নোটিস রেলের
    বর্তমান | ১৫ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রেলের জায়গা থেকে উচ্ছেদের নোটিস ঘিরে রামপুরহাটে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। শনিবার বিকেলে রামপুরহাটে  রেলের জায়গায় থাকা দোকানগুলিতে এসে জমি খালি করে দেওয়ার নোটিস ধরিয়েছে রেল পুলিশ। আগামী ২৪ জুন সেই উচ্ছেদ অভিযান হবে বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন তাঁরা। পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের অধীনস্থ এই স্টেশন চত্বরে ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আধুনিকীকরণ কাজের অগ্রগতির স্বার্থেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যদিও  ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ না করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করলেও তাতে কর্ণপাত করছেন না আধিকারিকরা। বরং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রেলের জমি ফাঁকা করতে বলেছেন তাঁরা। 

    এই পরিস্থিতিতে শনিবার রামপুরহাটে রেলের জমি দখল করে থাকা শতাধিক ব্যবসায়ীর দিশেহারা অবস্থা হয়েছে। একইভাবে দুশ্চিন্তা গ্রাস করেছে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের। কারণ, রেলের জায়গায় থাকা দোকানের উপর নির্ভর করেই তাঁদের সংসার, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা চলে। দোকান তুলে দেওয়া হলে তাঁদের না খেয়ে মরতে হবে। রেল কর্তৃপক্ষ যাতে তাঁদের উচ্ছেদ না করেন, সেই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

    উল্লেখ্য, আগে রামপুরহাটে রেলের জায়গা খালি করতে অভিযান চালানো হয়েছিল। স্টেশন চত্বরের পাশাপাশি চাঁদামারি রেলগেট থেকে ছ ফুঁকো এলাকায় থাকা দোকানদারদের উচ্ছেদ করা হয়। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বস্তিবাসীদের ঘরবাড়ি ভেঙে খালি করে দেওয়া হয়। যদিও কিছুদিন পরে পুনরায় চাঁদমারি রেলগেট থেকে ছফুঁকো পর্যন্ত বাঁশ, ত্রিপল খাটিয়ে ব্যবসা শুরু হয়ে যায়। এদিন সেই এলাকার ব্যবসায়ীদের ২৩ জুনের মধ্যে জায়গা খালি করার জন্য দোকানগুলিতে নোটিস সাঁটিয়ে দিয়েছে রেল পুলিশ। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জায়গা ফাঁকা না করলে আইনি ব্যবস্থা ও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলেও সতর্ক করা হয়। 

    রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় রামপুরহাট স্টেশনের ভোলবদল ও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর কাজ চলছে। স্টেশনের সৌন্দর্য্যায়ন, নতুন রাস্তা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্যই এই জমি পুনরুদ্ধার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে রেলের জায়গা দখলমুক্ত করতে হবে। শুধু রামপুরহাট নয়, সব জায়গাতেই জবরদখল উচ্ছেদ অভিযান চলছে। 

    এদিকে রেলের এই আকস্মিক উচ্ছেদের নোটিসে চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রামপুরহাট ফুটপাত উচ্ছেদ বিরোধী যৌথ মঞ্চের সদস্য তথা সিপিএমের এবারের বিধানসভার প্রার্থী সঞ্জীব মল্লিক বলেন, রেল তো দু’বছর আগে অধিকাংশ জায়গা থেকে ফুটপাত ব্যবসায়ী ও বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করেছে। হাতেগোনা কয়েকটি দোকান বাঁশ ও ত্রিপল খাটিয়ে ব্যবসা করে দিন গুজরান করছে। এরপরও ভাঙতে আসলে প্রতিরোধ হবে। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)