• অত্যাচারিত কর্মীরা ক্ষমা করে দিলে অনুব্রতকে দলে নিতে আপত্তি নেই
    বর্তমান | ১৫ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সম্মান না পেলে দল করব না। পাশাপাশি কংগ্রেসকে চটানো উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সৈনিক অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। অনেকের মতে, অনুব্রত মণ্ডলের এই মন্তব্য মূলত বীরভূমে পুরোনো কংগ্রেসী আবেগকে ছুঁতে চাওয়া এবং নিজের জন্য বিকল্প একটি রাজনৈতিক রাস্তা খোলা রাখার আগাম ইঙ্গিত। রবিবার বিকেলে রামপুরহাটে যোগদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসে অনুব্রত মণ্ডলের দলে ফেরার সম্ভাবনা বা তাঁকে গ্রহণ করার বিষয়ে কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন,  কংগ্রেস কর্মীদের উপর অনেক অত্যাচার করেছেন অনুব্রত মণ্ডল। ‘কর্মীরা ক্ষমা করলে তাঁকে দলে নিতে কোনও আপত্তি নেই।’ 

    রবিবার রামপুরহাটে যোগদান কর্মসূচি করে কংগ্রেস। সেখানে অভিজিৎবাবুর হাত ধরে প্রায় সাড়ে তিনশো রাজনৈতিক কর্মী কংগ্রেসে যোগ দেন বলে দাবি। মাত্র দু’ মাস আগে কংগ্রেস ছেড়ে অনুব্রত মণ্ডলের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন রামপুরহাট শহরের কংগ্রেস নেতা শাহজাদা হোসেন কিনু। তৃণমূলের ভরাডুবির পর এদিন তিনিও ঘরওয়াপসি করেন। অন্যদিকে দলের জেলা কমিটির সদস্য অমল শেখের নেতৃত্বে ২, ৭, ১০, ১১ ও্ ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক তৃণমূল কর্মী কংগ্রেসে যোগ দেন। একইভাবে নারায়ণপুর ও বড়শাল অঞ্চল থেকেও এদিন অনেকে হাত শিবিরে নাম লেখান। অভিজিৎবাবু বলেন, এদের মধ্যে ৯০ শতাংশ আছেন যারা নানা কারণে তৃণমূলে চলে গিয়েছিলেন। বাকি ১০ শতাংশ তৃণমূল কর্মী রয়েছেন। এদের বিভিন্নস্তরে দায়িত্ব দিয়ে সংগঠন শক্তিশালী করা হবে। তবে এটা প্রথম পর্যায়। আরও অনেকে যোগদানের জন্য ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। আগামীদিনে তাঁদেরও নেওয়া হবে। এরপরই তিনি অনুব্রত মণ্ডল প্রসঙ্গে বলেন, উনি কংগ্রেস কর্মীদের উপর অনেক অত্যাচার করে গিয়েছেন। কর্মীরা যদি তাঁকে ক্ষমা করে তাহলে দলে নিতে আপত্তি নেই। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অনুব্রত মণ্ডলের মতো একজন প্রভাবশালী নেতার দলে ফেরার সম্ভাবনা বা তাঁকে গ্রহণ করার বিষয়ে বীরভূম জেলা রাজনীতিতে যে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, এই বক্তব্য তারই ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে ‘কর্মীদের ওপর অত্যাচার’ এবং তাঁদের ‘ক্ষমা’ করার বিষয়টিকে সামনে রেখে অভিজিৎবাবু যেভাবে শর্তসাপেক্ষ সম্মতির কথা জানিয়েছেন, তা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে,  অভিজিৎবাবু অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গেথে বলটি অনুব্রত মণ্ডল এবং সাধারণ কর্মীদের কোর্টে ঠেলে দিয়েছেন।  
  • Link to this news (বর্তমান)