নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ থেকে ইলিশের সন্ধানে সমুদ্রে পাড়ি দীঘার মৎস্যজীবীরা
বর্তমান | ১৫ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, কাঁথি: রবিবার সমুদ্রে মৎস্যশিকারের ৬১ দিনের সময়সীমা (ব্যান পিরিয়ড) উঠছে। আজ, ১৫ জুন সোমবার থেকেই ইলিশের সন্ধানে সাগরে পাড়ি দেবেন দীঘা উপকূলের মৎস্যজীবীরা। দীর্ঘ দু’মাসের নীরবতার অবসান। ফের ছন্দে ফিরে এসেছে উপকূল। এবারও ট্রলার-লঞ্চ ও বোট মিলিয়ে সমুদ্রে ধাপে ধাপে নামবে দু’হাজারেরও বেশি মৎস্যযান। এখন থেকেই টাটকা ইলিশের আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন ইলিশপ্রেমী বাঙালি।
১৪ জুন শেষে ১৫ জুন রাত ১২ টা বাজলেই দীঘা সহ শঙ্করপুর, কাঁথির পেটুয়াঘাট, শৌলা-সর্বত্রই মৎস্যবন্দরগুলি থেকে ট্রলার-লঞ্চ, টু-সিলিন্ডার, ফোর-সিলিন্ডার বোট সমুদ্রে মৎস্যশিকারে রওনা দেবে। ফের মৎস্যজীবীদের আনাগোনা ও হাঁকডাকে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে জেটিঘাটগুলি। শুক্র ও শনিবার ট্রলার-লঞ্চগুলির কেবিনে উৎসবের মেজাজে আরাধ্যা দেবী মা গঙ্গার মাঙ্গলিক পুজার্চ্চনার কাজ চলে। সর্বত্রই একেবারে সাজসাজ রব। ট্রলার-লঞ্চগুলিতে রঙ করার পাশাপাশি তেল, বরফ, খাবার, পানীয় জল, ওষুধপত্র প্রভৃতি প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার কাজ শেষ। কেউ ব্যস্ত ছিঁড়ে যাওয়া জাল জোড়া লাগাতে, কেউ আবার ট্রলারের ইঞ্জিন ঠিকঠাক রয়েছে কি না সেটা পরীক্ষা করে নিচ্ছেন। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট, বঁয়া প্রভৃতি গুছিয়ে নিচ্ছেন মৎস্যজীবীরা।
প্রতিবছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত মূলত মাছের প্রজননকাল। মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের জন্য এই সময় সমুদ্রে মৎস্যশিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকে। নিষেধাজ্ঞা উঠতেই জীবনের রসদের খোঁজে দলবেঁধে সমুদ্রে পাড়ি দেন মৎস্যজীবীরা। ইলিশ জালে উঠলেই দুটো পয়সার মুখ দেখতে পান তাঁরা। লাভবান হন ট্রলার-লঞ্চ মালিকরা ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূল এলাকার একটি বড় অংশের মানুষের জীবন-জীবিকা মৎস্যশিকারের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। দীঘা, শঙ্করপুর, শৌলা, পেটুয়াঘাট-বিভিন্ন মৎস্যবন্দর থেকে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার মৎস্যজীবী গভীর সমুদ্রে যান। জেলা সহ মৎস্য-অধিকর্তা (সামুদ্রিক) সুমন সাহা বলেন, মৎস্যজীবীদের জীবন সুরক্ষায় লাইফ জ্যাকেট ছাড়াও লাইসেন্সের কাগজপত্র সহ জীবনবিমার নথিপত্র রাখতে হবে। মৎস্যশিকারের ক্ষেত্রে ৯০ মিলিমিটারের কম পরিধির ফাঁসের জাল ব্যবহার করা যাবে না। ২৩ সেন্টিমিটারের নীচে মাছ ধরা যাবে না। বর্ষাকালে গভীর সমুদ্রে মৎস্যশিকারে গিয়ে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনায় পড়ে ট্রলার-লঞ্চ। অনেক মৎস্যজীবীর প্রাণহানিও ঘটে থাকে। তাই মৎস্য দপ্তর ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর তরফে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিটি ট্রলার-লঞ্চে বিপদসঙ্কেত প্রেরকযন্ত্র (জিপিআরএস ডিভাইস) এবং অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।দীঘা ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, গত কয়েকবছর আশানুরূপ ইলিশ জালে না ওঠায় মৎস্যজীবীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যশিকারের ক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক সামগ্রীর দামও বেড়েছে। এক্ষেত্রে ইলিশ সহ অন্য মাছ আশানুরূপ ধরা পড়লে সেই ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে যায়। আবার শৌলা ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক, ট্রলার মালিক সত্যেন্দ্রনাথ সামন্ত বলেন, নানা সমস্যাকে সঙ্গী করেই অনেক আশা নিয়ে মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে পাড়ি দিচ্ছেন। আশা করছি, এবার ইলিশ মৎস্যজীবীদের হতাশ করবে না।