নদী ‘চুরি’ করে কারখানা, অট্টালিকা, দখলমুক্তিতে বুলডোজার? ইঙ্গিত মন্ত্রীর
বর্তমান | ১৫ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে লুট হয়েছিল শিল্পাঞ্চলের প্রকৃতিও। আস্ত নদী দখল করে নিয়েছিল কারখানা কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়রা বারবার প্রতিবাদ করলেও টুঁ শব্দ করেনি প্রশাসন। জামুড়িয়ার সিঙ্গারণ নদী লুট করে নেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। নদীকেই প্রাচীর দিয়ে ঘিরে গড়ে তোলা হয় কারখানা। একই দশা আসানসোলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গাড়ুই নদীরএ। নদীর চর দখল করে তৈরি হয়েছে বহুতল। স্তব্ধ জল নিকাশি। ফি বর্ষায় ভাসে আসানসোল রেলপাড় এলাকা। দুই নদীকেই দখলমুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
অগ্নিমিত্রা বলেন, জামুড়িয়ায় সিঙ্গারণ নদী দখল করে নিয়েছে ফ্যাক্টরিগুলি। আসানসোলের গাড়ুই নদী দখল হয়ে গিয়েছে। বিজেপি সরকার এই অবৈধ নির্মাণ মেনে নেবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নদীর চর বরাবর বুলডোজার চালিয়ে নির্মাণ গুড়িয়ে দেওয়া হবে। বাম আমলে গড়ে ওঠে জামুড়িয়া শিল্পতালুক। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে সেই শিল্পতালুকের সম্প্রসারণ হয়। কিন্তু সম্প্রসারণে উঠে আসে এক ভয়ঙ্কর ছবি। জামুড়িয়ার প্রাচীন নদী সিঙ্গারণ। যা জামুড়িয়া এলাকা ঘুরে অণ্ডাল হয়ে দামোদরে মেশে। সেই নদী কারখানার দূষিত জলে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপর কারখানা সম্প্রসারণের নামে সেই নদীকেই কারখানা ভেতরে ঢুকিয়ে নেয় কিছু বৃহৎ কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানার ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে নদী। এই বিরল দৃশ্য সম্ভবত জামুড়িয়াতেই দেখা যায়! তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ সংঘবন্ধ ভাবে আন্দোলন করেছিলেন। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পুরসভার কাছ থেকে অনুমোদন না নিয়েই কারখানাগুলি সম্প্রসারণ হয়েছিল। তার জন্য আসানসোল পুরসভার মোটা টাকা জরিমানা ধার্য করে। যদিও তা আদায় হয়নি। নদীর উপর দুনিয়াদারি নিয়ে এলাকাবাসী বীতশ্রদ্ধ ছিলেন। তাঁরা বুঝে গিয়েছিলেন, প্রশাসনের সর্বোচ্চস্তরের প্রশ্রয় না থাকলে এই ঘটনা সম্ভব নয়। এবার সরকার বদলেছে। জামুড়িয়ার নদী চুরির বিচার হবে কিনা প্রশ্ন ছিল জামুড়িয়াবাসীর। অগ্নিমিত্রা বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন দেখার পদক্ষেপ কবে হয়। জামুড়িয়ায় যেভাবে সিঙ্গারণ লুট হয়েছে আসানসোলে লুট হয়েছে গাড়ুই নদী। নদীর পাড়, চর দখল করে নির্মাণ হয়েছে। নদী ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। এই নদী দিয়েই শহরের বিস্তীর্ণ অংশের বৃষ্টির জল বয়ে যায়। নদী সংকীর্ণ হওয়ায় তাঁর বহন ক্ষমতা কমে গিয়েছে। মাঝে মধ্যেই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় আসানসোলের কিছু অংশে। অভিযোগ, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় নদী বেশি দখল হয়েছে। আগের সরকার এই নদী দখলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস দেখায়নি। মন্ত্রী জানিয়েছেন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জামুড়িয়ার সিঙ্গারণ নদী।-নিজস্ব চিত্র