• বর্ষা ঢুকেছে দেরিতে, অগ্রগতিও মন্থর, জুনের প্রথম ১৪ দিনে রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি
    বর্তমান | ১৫ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশে বর্ষা বা মৌসুমি বায়ু এবার বিলম্বিতই। তার উপর চলছে বেশ ধীরগতিতে। এতদিনে দক্ষিণ ভারত, পূর্ব ও মধ্য ভারত স্বাভাবিক ছন্দে পার করে পুরোপুরি উত্তর ভারতের কিছু অংশে বর্ষা ঢুকে পড়ার কথা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মধ্য ও উত্তর ভারতে বর্ষা প্রবেশ করেনি। এমনকি শুরু হয়নি দক্ষিণ ভারতের সমগ্র অংশেও। আপাতত কেরল ও তামিলনাড়ু, গোয়া এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে বর্ষা পুরোপুরি প্রবেশ করেছে। পূর্ব ভারতের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে, প্রায় গোটা রাজ্যে বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেছে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও বিহারের অল্প অংশওে। পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করলেও শুধু উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও লাগোয়া এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি আছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। রাজ্যের বাকি অংশে যেখানে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে সেখানেই কিছুটা বৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিই আপাতত থাকবে। এল নিনোর কারণে বর্ষার অগ্রগতি ধীর কি না হাওয়া অফিস সরকারিভাবে কিছু বলছে না। তবে দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, এবার মধ্য ভারত ও লাগোয়া এলাকায় বর্ষার বৃষ্টি কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। 

    আবহাওয়াবিদরা বলেন, মধ্য ভারত এবং তার লাগোয়া উত্তর ও পশ্চিম ভারতের এসময়ের চাষআবাদ বহুলাংশে বৃষ্টিনির্ভর। তাই এই অঞ্চলকে ‘রেইন ফেইড’ বলা হয়। এখনো ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ ও মারাঠাওয়াড়া এলাকায় বর্ষা ঢোকেনি। মধ্য ভারতের একাংশে তাপপ্রবাহ প্রবল। সেখানকার শুকনো গরম হাওয়া জলীয় বাষ্পপূর্ণ বর্ষার স্রোতকে প্রতিহত করছে। উত্তর-পশ্চিম ভারতের হিমালয়ে পশ্চিমি ঝঞ্ঝাতেও মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি বাধা পেতে পারে। 

    তবে গোটা দেশে বর্ষা প্রবেশের স্বাভাবিক সময় ৫ জুলাই। রাজস্থানে বর্ষা ঢোকে সবার শেষে। পরবর্তীকালে ইতিবাচক বায়ুস্রোত পেলেই মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি দ্রুততর হবে। গত শুক্রবারের পর থেকে মৌসুমি বায়ু থমকে আছে। আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ের কিছু অংশে মৌসুমি বায়ু ঢুকতে পারে। একই সময়ে বর্ষার দেখা পেতে পারে মহারাষ্ট্রের আরো কিছু অংশ এবং তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকের বাদবাকি এলাকা। উল্লেখ্য, চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গে বেশকিছু অংশে বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে।  
  • Link to this news (বর্তমান)