বিপুল খরচ, এখনই বদলাচ্ছে না তিলোত্তমার নীল-সাদা ‘রং’
বর্তমান | ১৫ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইতিমধ্যে নবান্ন সভাঘরে পড়েছে নতুন রংয়ের প্রলেপ। চর্চা চলছে, এবার কি শহরজুড়েই রং বদলের ঘনঘটা শুরু হবে? কারণ, ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন সরকারি নির্মাণ, অফিসকাছারি, উড়ালপুলের নীল-সাদা রং নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে শাসক দল বিজেপির একাংশ। যদিও পুর প্রশাসন সূত্রে খবর, আপাতত শহরের রং বদলের কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের। কারণ, বাদ সাধছে বিপুল খরচ। তাই আপাতত নজরে রাস্তার ডিভাইডার এবং কার্ভ চ্যানেলগুলি। যেগুলি ট্রাফিক আইনের নিয়ম মেনে নীল-সাদার বদলে সাদা-কালো কিংবা হলুদ-কালো করে দেওয়া হতে পারে। তাতে পথ নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের রং নীল-সাদা। সেই সূত্রেই বিভিন্ন সরকারি অফিস থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সম্পত্তি—সর্বত্র গত ১৫ বছরে নীল-সাদা রং করা হয়েছিল। এমনকি, তৃণমূল আমলে সৌন্দর্যায়নের জন্য তৈরি মিডিয়ান স্ট্রিপেও নীল-সাদা রঙ করা হয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর বিজেপির ছোটো-বড়ো বিভিন্ন স্তরের নেতা এই রং বদলে ফেলার পক্ষে সওয়াল করছেন। চর্চা চলছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। নবান্ন সভাঘরের রং বদলের পর সেই চর্চা আরও গতি পেয়েছে। নবান্ন সভাঘর এখন গেরুয়া। তবে কি পরবর্তী ধাপে রাস্তার মিডিয়ান স্ট্রিপ থেকে সুলভ শৌচালয় বা রাস্তার রেলিংয়ে গেরুয়া পোঁচ স্রেফ সময়ের অপেক্ষা? জল্পনা চলছে সর্বত্র। আধিকারিক স্তরেও চলছে আলোচনা-কানাঘুষো। তবে কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, আপাতত রং বদলের কোনো ‘অর্ডার’ নবান্ন থেকে আসেনি। পুরসভার এক অফিসার বলেন, ‘এই মুহূর্তে পুরসভার কোষাগারের অবস্থা বেহাল। রাজ্যেরও ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা। নীল-সাদার জায়গায় নতুন করে রং করতে গেলে কোটি কোটি টাকা প্রয়োজন। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে এই খরচের প্রশ্নই ওঠে না। কোনোভাবেই তা সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় আসবে না বলেই মনে হয়। তবে এটাও ঠিক যে নতুন সরকার রোড সেফটির বিষয়টিতে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাইছে।’
পুরকর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাস্তার ধারের কার্ভ চ্যানেল, ডিভাইডারের রং বদল নিয়ে প্রাথমিক স্তরে আলোচনা হয়েছে। কারণ, ট্রাফিক আইন মেনে এগুলি সাদা-কালো বা উজ্জ্বল হলুদ-সাদা হওয়া দরকার। তাতে রাতে গাড়ি চালাতে সুবিধা হয়। কিন্তু গত সরকার সেসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই রাস্তার এসব অংশ নীল-সাদা করেছিল বলে অভিযোগ। পথ নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমান সরকার আপাতত এগুলি নিয়ম মেনে রং করাতে চায়। তবে সেক্ষেত্রেও এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সূত্রের খবর, এই টানাপোড়নের আবহে বিভিন্ন জায়গায় কলকাতা পুরসভার নিকাশি পাম্পিং স্টেশন থেকে শুরু করে জল প্রকল্পের যেসব কাজ চলছে, সেসব জায়গায় সর্বত্র রংঙের কাজ আপাতত বন্ধ। অনেক জায়গাতেই বিল্ডিং তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে বা কাজ চলছে শ্লথ গতিতে। এ বিষয়ে শীর্ষ কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো বার্তা না আসা পর্যন্ত ‘ধীরে চলো’ নীতিতেই ভরসা রাখছেন পুরকর্তারা।