পাঁচলায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা ডাকাতি, চলল গুলি
বর্তমান | ১৫ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী। তখনই তাঁর থেকে সোনা ও রুপোর গয়না সহ নগদ টাকা ভর্তি ব্যাগ ডাকাতি করে পালাল দুষ্কৃতীরা। এমনকী দুষ্কৃতীরা পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলেও অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে, পাঁচলা থানার রানিহাটি জয়নগর বাজার এলাকায়। ডাকাতির গোটা ঘটনাটি সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। পাঁচলা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
রানিহাটি জয়নগর বাজারে চন্দন কাঁড়ার নামে এক ব্যবসায়ীর সোনার দোকান আছে। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে নিজের দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওই ব্যবসায়ী। তাঁর কাঁধে এবং হাতে থাকা দু’টি ব্যাগে সোনা ও রুপোর গয়না এবং নগদ টাকা ছিল। অভিযোগ সেই সময়ে তিনটি বাইকে চেপে ছয় দুষ্কৃতী মুখ ঢাকা অবস্থায় আচমকা সেখানে আসে। তাঁরা ব্যবসায়ীকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে তাঁর কাছ থেকে দু’টি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ব্যবসায়ী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ২ রাউন্ড গুলি চালায় বলেও অভিযোগ। ভাগ্যক্রমে ওই গুলি ব্যবসায়ীর গায়ে না লেগে তাঁর বাইকে লাগে। এরপর দুষ্কৃতীরা পালানোর চেষ্টা করে। তখন আশেপাশের লোকজন তাঁদের তাড়া করলে তাঁরা শূন্যে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ।
খবর পেয়ে পাঁচলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ব্যবসায়ী চন্দন কাঁড়ারের বক্তব্য, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বাড়ি যাওয়ার জন্য দোকান বন্ধ করে বাইক মুছছিলাম। তখন দুষ্কৃতীরা আচমকা এসে দু’টি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি আমার গায়ে না লেগে বাইকে লাগে। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা আরও গুলি ছোড়ে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, দুটি ব্যাগে প্রায় আট কিলোগ্রাম রুপোর গয়না, প্রায় ২০০ গ্রাম সোনার গয়না এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিল। তিনি বলেন, রানিহাটি এলাকায় সোনার দোকানে ডাকাতি এবং গুলি চালানোর ঘটনা এই প্রথম ঘটল।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ঝালমুড়িওয়ালা পিন্টু দে বলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার জন্য বাইকে স্টার্ট দিচ্ছিলেন। তখনই দুষ্কৃতীরা তাঁর থেকে দু’টি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় তাঁরা। যদিও গুলিতে কেউ আহত হননি। তবে এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকার ব্যবসায়ীরা। বিজেপি নেতা রঞ্জন পাল অভিযোগ করেন, আইনের শাসন ভাঙার লক্ষ্যে কিছু দুষ্কৃতী এই সমস্ত অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। আমরা চাই পুলিশ দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করুক।