ছ’মাস পরও সরানো হয়নি সেবাশ্রয় ক্যাম্পের কাঠামো, বন্ধ খেলাধুলো
বর্তমান | ১৫ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ফলতায় মাঠের একটা বড়ো অংশজুড়ে তৈরি হয়েছে কলকাতা মেডিকেল কলেজ! আসল নয়, প্রতীকী! সেখানে নাকি চিকিৎসা হত! ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে সেবাশ্রয় মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনে আড়ম্বরের শেষ ছিল না। সেই মতো বিগত সরকারের আমলে ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের নির্দেশে হরিণডাঙা মাঠে তৈরি করা হয়েছিল ওই বিশাল থিমভিত্তিক ক্যাম্প। স্থানীয়দের দাবি, এটি বানাতে খরচ হয়েছিল কয়েক লক্ষ টাকা। তারপর ছ’মাসের বেশি অতিক্রান্ত। কিন্তু আজও সেই নির্মাণ খোলা হয়নি। ফলে সেই মাঠ এখনও কার্যত ‘বেদখল’ হয়ে রয়েছে। আগে বিকাল হলেই কচিকাঁচা থেকে পাড়ার তরুণরা ফুটবল থেকে শুরু করে নানা ধরনের খেলায় মেতে থাকত সেখানে। গত কয়েক মাস ধরে তারা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কেন সেই অস্থায়ী কাঠামো খোলা হচ্ছে না, সেটাই অনেকের কাছে আশ্চর্যের। সাধারণ মানুষের দাবি, বিপুল টাকা অপচয় করে লোক দেখানো শিবির করা হয়েছিল। কতজন কী চিকিৎসা পেয়েছে, কেউ জানেও না। অযথা মাঠটি আটকে রাখা হয়েছে। বাচ্চারা খেলবে কোথায়? কতদিন আগে তো শিবির শেষ হয়েছে। তাহলে আজও কেন ওই কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে? প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের।
জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় দফার সেবাশ্রয় যখন শুরু হয়, তখন ডায়মন্ডহারবার লোকসভার অধীন বিভিন্ন বিধানসভায় একটি করে মডেল ক্যাম্প তৈরি করতে বলা হয়েছিল। সেই সূত্রেই হরিণডাঙায় প্যান্ডেল করে কলকাতা মেডিকেল কলেজের আদলে ক্যাম্পটি বানানো হয়। আর পাঁচটা শিবিরের তুলনায় এটি ছিল অনেক বড়ো। বাঁশ ও লোহার কাঠামো দিয়ে তৈরি করা হয় ক্যাম্পটি। তাতে মাঠের একটা বড়ো অংশই চলে যায়। কিন্তু কর্মসূচি শেষ হয়ে যাওয়ার পর একটা বাঁশ খোলার নামও ধরেনি কেউ। যতদিন তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল, ততদিন এ ব্যাপারে কেউ উচ্চবাচ্য করার সাহস পায়নি। কিন্তু সরকার বদল হওয়ার পরও কেন এ ব্যাপারে প্রশাসন উদাসীন, প্রশ্ন তুলছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা বলেন, বয়স্করা মর্নিংওয়াক করতেন ওই মাঠে। বিকালে খেলাধুলো যেমন চলে, অনেকে সেখানে বসে গল্পগুজব, আড্ডাও দেয়। এই অবস্থায় কেউ বললেন, ‘জাহাঙ্গির তো জেলে। এখন আর কীসের ভয়? প্যান্ডেল খোলা হচ্ছে না কেন?’ সূত্রের খবর, ডায়মন্ডহারবারের এসডিও মাঠেও এই শিবির করার জন্য লোহার কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছিল। সেগুলিও পুরোপুরি সরানো হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে ওই মাঠেও খেলাধুলা করতে সমস্যা হচ্ছে। ফলতাতেও একই হাল হয়ে রয়েছে। নিজস্ব চিত্র