হিন্দুদের ভারতে রেখে দিতে তারকেশ্বরের মাটি থেকেই দাবি উঠেছিল বাংলা ভাগের
বর্তমান | ১৫ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকনাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বে তীর্থক্ষেত্র হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে তারকেশ্বর। ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন হবে এই শিবতীর্থে। পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু ভারতীয়দের বসবাসের স্বাধীনতা এসেছিল এই তারকেশ্বরের হাত ধরে। যার প্রধান কাণ্ডারী ছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।
তারকনাথ মন্দিরের তৎকালীন দেওয়ান প্রফুল্লচন্দ্র স্মৃতিতীর্থ তাঁর লেখা বইয়ে তারকেশ্বর মন্দির ইতিহাস বর্ণনার পাশাপাশি তৎকালীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে বোর্ড কর্তৃক প্রচারিত একটি বইয়ে উল্লেখ আছে, আগে বাবা তারকনাথের শিবলিঙ্গ কামনালিঙ্গ নামে পরিচিত ছিল। তিনি সকলের মনষ্কামনা পূর্ণ করেন। ১৩৩০ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিশ্বানন্দ, সচিদানন্দ প্রমুখ ব্যক্তির প্রচেষ্টায় মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার জন্য সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু হয়। ওই সময় উচ্চ ন্যায়ালয়ে দীর্ঘদিন মোকাদ্দমা চলার পর দেবত্র সম্পত্তি রক্ষা ও সেবা পুজোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন অমূল্যচরণ ভাদুড়ি। তাঁকে রিসিভার পদে নিযুক্ত করা হয়েছিল। প্রায় ১২ বছর তিনি ওই পদে ছিলেন।
১৯৪৭ খ্রীস্টাব্দের ৪-৬ এপ্রিল, তিনদিন ধরে বঙ্গীয় হিন্দু মহাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল তারকেশ্বরে। সেই সময় তারকেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্ররা স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করেছিলেন। মহাসভার দ্বিতীয় দিনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলা হয়। বাংলা ভাগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিধানসভার ঐতিহাসিক অধিবেশন হয় ২০ জুন, ১৯৪৭। এই অধিবেশনে ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত হয়। আইন প্রণেতাদের আরেকটি পৃথক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, হিন্দু প্রধান প্রদেশকে ভারত থেকে আলাদা করা উচিত নয়। তৃতীয় সভায় দেশভাগের প্রশ্নে পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বাংলা বিভাজনের প্রশ্নে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ওই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ৭৯ বছর পূর্ণ হবে আগামী ২০ জুন, ২০২৬। এই দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালন করা হবে তারকেশ্বরে। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও বহু বিশিষ্ট মানুষ অংশ নেবেন এই বিশেষ অনুষ্ঠানে।