• এনসিপিআই কারা? খোঁজ ইন্টারনেটে
    বর্তমান | ১৫ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা যোগ দিচ্ছেন নতুন এক দলে। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া। সংক্ষেপে এনসিপিআই। রবিবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের সৌজন্যে বাংলার মানুষ জানতে পারল এই নতুন দলের নাম। যার সদর দপ্তর আবার হাওড়াতেই। অথচ এমন কোনো পার্টি যে বাংলায় আছে, সেই সম্পর্কে রবিবার বিকেল পর্যন্ত তামাম বাংলার মানুষের কোনো ধারণাই ছিল না। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সৌজন্যে সন্ধ্যা থেকে গুগল সার্চে উপরের দিকে উঠে আসে এনসিপিআইয়ের নাম। এই নয়া পার্টির খোঁজ শুরু করেন শাসক-বিরোধী সব দলের রাজনৈতিক কর্মীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে হাজার হাজার মিম, মজার ভিডিয়ো। বিদ্রোহী সাংসদদের এই দলবদলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘এতদিন ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছাতার তলায়। এবার গেলেন ব্যাঙের ছাতার তলায়। তৃণমূলের টিকিটে জিতে ওই বিদ্রোহী সাংসদরা এলাকার মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন।’

    নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, আন রেজিস্টার্ড এই পার্টির সদর দপ্তর হাওড়ার সাঁকরাইলে। ঠিকানা—জাগো বিশ্ব, হোল্ডিং নম্বর ৪৭১৯, গ্রাম হাটগাছা, ডাকঘর বানিপুর। এই দলের প্রতীক চিহ্ন পেনের নিব ও সাত রশ্মি। এই দলের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ত্রিপুরায়। ২০২৩ সালে এই দলটিকে স্বীকৃতি দেয় নির্বাচন কমিশন। এর আগে ত্রিপুরার তিনটি আসনে এই দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কৈলাশহরে এনসিপিআই প্রার্থী ভোট পেয়েছিলেন মাত্র ২৮৬টি। ছামনু আসনে এই দলের প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৫৩৬টি। আমবাসায় প্রার্থী দিয়েছিল এনসিপিআই। সেখানে জামানত জব্দ হয় প্রার্থীর। 

    এনসিপিআই নামে কোনো পার্টি তাদের রাজ্যে আছে কি না, তা স্মরণ করতে পারছেন না ত্রিপুরার তাবড় নেতারা। মজার বিষয়, অতীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দলের একটি বিবৃতিতে লেখা হয়েছিল, ‘দল বদলানো রাজনৈতিক মুখ নয়, আপনি এগিয়ে আসুন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে।’ তা দেখে রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের মতো তৃণমূলের টিকিটে জয়ী সাংসদরা অন্য দলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন। তাহলে তো এনসিপিআই পার্টির অফিসিয়াল বিবৃতির সঙ্গে সাযুয্য নেই। ইতিমধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই দলের নেতাদের ছবিও দেখা গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, এই দলের নেতাদের অনেকেরই বাড়ি নদীয়া জেলা রানাঘাট সংলগ্ন অঞ্চলে। রাতে এনসিপিআইয়ের দলের সভাপতি শিউলি কুণ্ডু জানান, ‘আজ এনিয়ে কিছু বলতে পারব না। এখন বৈঠক চলছে। যা বলার কাল বলব।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)