মুক্তির অপেক্ষায় ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত ‘অভিমান’। জীবনের নানা ‘মান-অভিমান’ নিয়ে আড্ডা দিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
প্রশ্নঃ টেনশনে আছেন?
উত্তরঃ (হাসি) জানেনই তো, ছবি রিলিজের আগে টেনশন হয়ই।
প্রশ্নঃ প্রযোজকরা একেবারে নতুন তো?
উত্তরঃ হ্যাঁ, যিশু (সেনগুপ্ত) এবং সৌরভের (দাশ) প্রথম প্রযোজনা। ওরা দু’জনেই আমার ঘরের ছেলে। আমাদের এখানকার যারা অভিনেতা, তারা সিরিয়াসলি প্রযোজনায় ঢুকছে, এটা খুব ভালো। প্রযোজনা করা মানে শুধু সিনেমায় টাকা লগ্নি নয়। সিনেমা বুঝতে হবে, জানতে হবে, ভালোবাসতে হবে।
প্রশ্নঃ বাস্তবের মেগাস্টার, সুপারস্টার— এই ছবিতে আপনি ‘রকস্টার’... বয়স কমালেন কীভাবে?
উত্তরঃ হা হা..। আমরা বয়স কত? ২৫-২৬ হবে (হাসি)। সকলের আশীর্বাদে আমার এনার্জি লেভেল ওটাই। গল্পটা শোনার পর থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়। এখানে আমার দুটো বয়স। দুটো আলাদা সময়। আমি অঞ্জন দত্ত, নচিকেতাকে দেখেছি। সেখান থেকে আজকের রূপম ইসলাম। আমি রূপমকে বলেওছি, তোকে কপি করছি...। এই দুটো সময়কে মেলানোর চেষ্টা করেছি।
প্রশ্নঃ মিউজিকের কোন ঘরানা বেশি পছন্দ?
উত্তরঃ আমি জিম করতে করতেও যেটা শুনি সেটা অন্য কেউ শোনে না, রবীন্দ্রসঙ্গীত...। হেমন্ত (মুখোপাধ্যায়) জেঠু, শ্যামল মিত্র শুনি। মুকেশজি, কিশোর কুমার, মহম্মদ রফি শুনি। গজল ভালোবাসি। অঞ্জন, নচিকেতার গান আমার প্লেলিস্টে থাকে।
প্রশ্নঃ রকস্টারের চরিত্র পেতে এতটা সময় লাগল কেন?
উত্তরঃ এর আগে দু-একবার এমন চরিত্র এসছে। কিন্তু কোনো কারণে ছবিগুলো হয়নি। আমি এখন তীর্থের কাকের মতো যে চরিত্র করিনি, তার জন্য অপেক্ষা করে থাকি।
প্রশ্নঃ এমন চরিত্র খোঁজেন, যা আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলবে?
উত্তরঃ আমি এমন চরিত্র খুঁজি, যার ছ’টায় কলটাইম থাকলে আমি চারটেয় উঠে পড়ব। তাড়াতাড়ি মেকআপ রুমে গিয়ে তৈরি হয়ে নেব। দু’ঘণ্টা পরে ডাকুক সেটে, তাতে অসুবিধে নেই। কিন্তু চরিত্রটার সঙ্গে থাকব। চরিত্র নিয়ে ভালো লাগা আর ভয় পাওয়া যেন একসঙ্গে থাকে।
প্রশ্নঃ কোনটা ভয়? কোনটা ভালো লাগা?
উত্তরঃ আমি পারব তো? এটা ভয়। আর ভালো লাগাটা হল, যে অনুভূতিটা এনজয় করি।
প্রশ্নঃ আপনার অভিমান হয়?
উত্তরঃ অভিমান তো থাকেই। আমার ওপরও অনেকের অভিমান হয়। অভিমান ভাঙানোটাও খুব মিষ্টি। অভিমান কিন্তু রাগ নয়।
প্রশ্নঃ অভিমান হলে বলে ফেলতে পারেন?
উত্তরঃ অভিমান যদি চট করে বলে ফেলা যায়, তাহলে সেটা আর অভিমান নয়। অভিমান কিন্তু বহন করতে হয়। এর পিছনে বড়ো শব্দ আছে, সময়। সময় অনেক কিছু বদলে দেয়। এটাই তো জীবন।
প্রশ্নঃ কোনো অভিমান ভাঙানো হয়নি বলে আপশোস রয়েছে?
উত্তরঃ অনেক...। যদিও ধীরে ধীরে সংখ্যাটা কমছে। এখনও কিছু অভিমান ভাঙাতে পারিনি। কিন্তু হাল ছাড়িনি। সেগুলো বলতে পারব না (হাসি)।
প্রশ্নঃ ইন্ডাস্ট্রির প্রতি অভিমান?
উত্তরঃ কখনো কখনো হয়। আজ থেকে ১৫ বছর আগে যে অভিমান হতো, তার ধরন আলাদা ছিল। সেটা অন্যভাবে ক্যারি করতাম। আজ আমার চারপাশটা যেমন, সেখানে অভিমান বেশিদিন ধরে রাখি না। কারণ আমি মনে করি, এখন আমাকে এফর্ট দিতে হবে। যারা আমাকে ভালোবাসে, তারা ভালোবাসে বলেই অভিমান করে। তাই অভিমান ভাঙানোটা আমার দায়িত্ব।
প্রশ্নঃ বাংলা ইন্ডাস্ট্রির এখন যাবতীয় অভিমান তো সব সোশ্যাল মিডিয়ায়?
উত্তরঃ এটা একটা পর্যায়। কেটে যাবে। দেখুন, সিনেমা একটা স্বপ্ন। আমরা স্বপ্ন বিক্রি করি। মানুষ স্ক্রিনের ম্যাজিক দেখতে আসেন। দায়িত্ব নিয়ে এই ম্যাজিকটা ধরে রাখতে হবে।
প্রশ্নঃ নতুন সরকারের কাছে ইন্ডাস্ট্রির জন্য কী প্রত্যাশা?
উত্তরঃ আমাদের সিনেমাকে আন্তর্জাতিক মানের করতে হবে। এটা সরকারের কাজ নয়, কাজটা আমরাই করব। সরকারের কাছ থেকে সাহায্য নেব, যেমন আর পাঁচটা কর্পোরেট নেয়।
প্রশ্নঃ পদ্মশ্রী প্রাপ্তি আপনাকে কতটা বদলে দিল?
উত্তরঃ সত্যি বলতে, আমার ছেলে সেদিন কেঁদে ফেলেছিল। ওকে ডেকে বলেছিলাম, পদ্মশ্রীর পরে যে ছবিটা করব, সেটা হবে জীবনের প্রথম ছবি। আর আমার বাবা ওকে বলেছেন, চট্টোপাধ্যায় পরিবারে এত বড়ো একটা সম্মান এসেছে। তোমার দায়িত্ব কিন্তু আরও বেড়ে গেল।