বোলপুর শান্তিনিকেতনের অরবিন্দ নিলয়ে ‘ব্যবসায়িক’ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে বহু বিতর্কের মধ্যেই অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করল পুদুচেরির শ্রী অরবিন্দ আশ্রম। সূত্রের খবর, আশ্রম কর্তৃপক্ষ অকপটে স্বীকার করে নিয়েছে, নিলয় চত্বরে নির্মাণের জন্য বহুদিন থেকে একটি পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেই বিষয়ে কোনও ছাড়পত্র বা অনুমোদনের জন্য এখনও পর্যন্ত বোলপুর পুরসভা কিংবা বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়নি।
বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরিষ্কার ভাবে জানানো হয়েছে, বোলপুর পুরসভা কিংবা বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের প্রশাসনের অনুমতি মিললেই কেবল নির্মাণকাজ এগোবে এবং সেটা হবে নিলয়ের ঐতিহ্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে। প্রসঙ্গত ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত অরবিন্দ নিলয়ের পরিবেশ বিনষ্ট করে সেখানে বাণিজ্যিক প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন পুদুচেরির শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের শান্তিনিকেতন শাখার একাধিক শিষ্য।
যদিও এই বিষয়ে বোলপুর শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানান, “বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে এই সংক্রান্ত কোনও আবেদন এখনও পর্যন্ত এসে পৌঁছায়নি। ভবিষ্যতে আবেদন এলে বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষার সমস্ত নিয়ম মেনেই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ২০২৩ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কো বিশ্বভারতীকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ স্বীকৃতি দেয়।
নিয়ম অনুযায়ী, হেরিটেজ এলাকার বাফার জোনের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও ধরনের বাণিজ্যিক নির্মাণ করা যায় না। শ্রী অরবিন্দ নিলয় সেই বাফার জোনের মধ্যেই অবস্থিত। ফলে এখানে যাতে কোনও বাণিজ্যিক প্রকল্পের অনুমোদন না দেওয়া হয়, তার জন্য বিশ্বভারতীর উপাচার্যের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিষ্যরা। এই অভিযোগ সকলের সামনে আসার পরই পুদুচেরি শ্রী অরবিন্দ আশ্রম ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি মনোজ দাশগুপ্ত এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।