রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক ও জৈব কৃষির প্রসারে জোর দিল রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই পূর্বস্থলী-২ ব্লকের কালেখাঁতলা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পারুলিয়া শিলভবনে রবিবার অনুষ্ঠিত হল প্রাকৃতিক কৃষি বিষয়ক এক কর্মশালা। কর্মশালায় এলাকার বহু কৃষক অংশগ্রহণ করেন। বর্তমানে অধিক ফলনের আশায় অধিকাংশ কৃষক রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
কিন্তু এর ফলে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা ও জীবাণু বৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের প্রাকৃতিক কৃষির প্রতি উৎসাহিত করতে রাজ্যজুড়ে ধারাবাহিকভাবে কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। কর্মশালায় বক্তারা জানান, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মাটির ধারণক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং খাদ্যশস্যের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তাই ধীরে ধীরে কৃষকদের প্রাকৃতিক ও জৈব পদ্ধতির চাষের দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান হয়। বিশেষ করে পরিবারের জন্য উৎপাদিত শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলে রাসায়নিকের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এদিন প্রাকৃতিক কৃষির বিভিন্ন দিক, জৈব সার ব্যবহারের উপকারিতা, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কৃষকদের হাতে-কলমে সচেতন করার পাশাপাশি টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, সুস্থ সমাজ গড়তে হলে সুস্থ খাদ্য উৎপাদন অত্যন্ত জরুরি। আর সেই লক্ষ্যেই প্রাকৃতিক কৃষির প্রসার সময়ের দাবি। পাশাপাশি কৃষকদের সঙ্গে কৃষি দফতরের আধিকারিকদের আরও মানবিক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার উপরও জোর দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। কৃষির টেকসই উন্নয়ন, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রাকৃতিক কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরেন তাঁরা।