: নদিয়া জেলার করিমপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাটাবোকা হরিতলা ১৯৯ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রে রাতের অন্ধকারে তালা ভেঙে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য। শিশুদের জন্য সংরক্ষিত চাল, ডাল ও রান্নার মূল্যবান বাসনপত্র চুরির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও আইসিডিএস কেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো সকাল আনুমানিক ৭:০০ টা নাগাদ যখন ওই কেন্দ্রের কর্মী কুহেলি সরকার সেন্টারে আসেন, তখন তিনি প্রধান দরজাটি সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় দেখতে পান। তিনি লক্ষ্য করেন যে গেটের আসল তালাটি উধাও এবং ভিতরের রান্নাঘরের দরজার তালাটি ভাঙা অবস্থায় ঝুলছে। অনভিপ্রেত এই পরিস্থিতি দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিজে ভিতরে না ঢুকে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও এলাকার মানুষজনকে ডেকে আনেন।
পরবর্তীতে সকলের উপস্থিতিতে কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, রান্নাঘরের গ্যাস ওভেনটি খোলার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া শিশুদের মিড-ডে মিলের জন্য মজুত রাখা বেশ কিছু পরিমাণ চাল, ডাল, রান্নার তেল ও লবণ সম্পূর্ণ চুরি হয়ে গেছে। শুধু খাদ্যসামগ্রীই নয়, চোরেরা রান্নার বড় হাঁড়ি (ঢাকনা-সহ), গামলা, থালা, বাটি এবং গ্লাস-সহ শিশুদের খাওয়ার সমস্ত মূল্যবান বাসনপত্র নিয়ে চম্পট দিয়েছে।
আইসিডিএস সেন্টারের শিক্ষিকা কুহেলি সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও অভিযোগ করেন যে, রাতের অন্ধকারে এই সেন্টারের সামনে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। প্রতিদিন সকালে সেন্টারে ঢোকার মুখে মদের বোতল এবং গ্লাস পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা আজও ছিল। এর আগেও দুই-তিনবার এখানে তালা ভাঙার চেষ্টা করা হলেও চুরি এবারই প্রথম হয়েছে। ঘটনার পর আইসিডিএস কর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে করিমপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করে।
এই বিষয়ে স্থানীয় ২ নম্বর পঞ্চায়েতের বর্তমান সদস্য সমর মিস্ত্রি এবং প্রাক্তন সদস্য বাবলু মিস্ত্রি তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাবলু মিস্ত্রি জানান, ইতিপূর্বে ২০১৮ সালেও এই কেন্দ্রে একই ধরণের চুরির ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান সদস্য সমর মিস্ত্রি বলেন, ‘বারবার এই কেন্দ্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’ এলাকার মানুষের দাবি, শিশুদের এই পুষ্টি সরবরাহ কেন্দ্রে অবিলম্বে পুলিশি নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হোক।