বাংলার রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু NCPI। সেই দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আইনজীবী শিউলি কুণ্ডু। অন্তত এমনটাই প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। শিউলিও সে দাবিই করেছেন। তাঁর তৈরি দলেই যোগ দিয়েছেন ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ। কিন্তু সে ব্যাপারে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না বলে জানালেন শিউলি। কারণ মাসখানেক আগে দলের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। শিউলি বললেন, ‘পার্টির বর্তমান সভাপতি বলবেন। আমার এটা নিয়ে কিছু বলা উচিত হবে না।’
এখন দলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি। দলের বর্তমান সভাপতি কে? শিউলি কুণ্ডু বললেন, ‘বলতে পারব না।’ বর্তমান সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ আছে? কিছুই বললেন না তিনি।
NCPI-এর আরও একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শান্তনু দে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, ‘দলের এই নাম আমি রাখতে বলেছিলাম। রবিবার জানতে পেরেছি তৃণমূলের সাংসদেরা যোগ দিয়েছেন। তৃণমূলের কোনও সাংসদের সঙ্গে এখনও কথা হয়নি। আশা করছি যোগাযোগ করবেন।’ দলের আর এক প্রতিষ্ঠাতা উত্তীয় কুণ্ডু বিষয়টি নিয়ে দলের সঙ্গে আলোচনা করেননি বলে দাবি শান্তনুর। পুরোটাই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কারা দলে যোগ দিলেন এবং কী ভাবে যোগ দিলেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন শান্তনু দে।
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন NCPI-এর ত্রিপুরার নেতা জাহাঙ্গির আলি। ত্রিপুরার বাসিন্দা জাহাঙ্গির আগে তৃণমূল করতেন। পরে সুস্মিতা দেবের হাতে ত্রিপুরার দায়িত্ব যাওয়ার পরে তাঁরা ২০২২ সালের শেষের দিকে NCPI-তে যোগ দেন বলে জানিয়েছেন। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা ভোটে কৈলাশহর কেন্দ্রে NCPI-এর প্রার্থী ছিলেন তিনি। সোমবার জাহাঙ্গি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘আমি শুনেছি ২০ জন তৃণমূল সাংসদ যোগ দিয়েছেন, আমার কাছে আলাদা কোনও তথ্য নেই।’ তবে জাহাঙ্গির শিউলি কুণ্ডুকেই দলের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে এ দিনই কলকাতায় শিউলি জানিয়েছেন তিনি মাসখানেক আগে ইস্তফা দিয়েছেন।
হাওড়ায় রেজিস্টার্ড অফিস রয়েছে NCPI-এর। সেখানে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন উত্তীয় ও শিউলি কুণ্ডুর বড় মেয়ে দীপান্বিতা কুণ্ডু। তিনি জানান ২০২২ সাল থেকে এখানে NCPI দলের অফিস চালু হয়েছে । ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে NCPI দলের হয়ে ঝোড়হাট গ্রাম পঞ্চায়েতে গ্রাম সভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।