• উঠল নিষেধাজ্ঞা, কোন আশায় বুক বাঁধছেন মৎস্যজীবীরা?
    আজকাল | ১৫ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্কঃ দু’মাসের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতেই নতুন আশায় বুক বেঁধে সমুদ্রের পথে পাড়ি দিতে শুরু করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাজার হাজার মৎস্যজীবী। ১৪ জুন মধ্যরাত থেকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা, ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, রায়দিঘি, ক্যানিং ও গোসাবা-সহ বিভিন্ন মৎস্য বন্দর এলাকায় শুরু হয়েছে ট্রলার নামানোর তোড়জোড়। 

    মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সামুদ্রিক মাছের প্রজননকাল সুরক্ষিত রাখতে প্রতি বছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। এই সময় মাছ নির্বিঘ্নে প্রজননের সুযোগ পায়। চলতি বছরও সেই নিয়ম অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। অবশেষে নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই ফের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে প্রস্তুত মৎস্যজীবীরা।

    বর্ষা এলেই বাঙালির খাদ্য তালিকায় বাড়ে ইলিশের চাহিদা। সেই চাহিদা পূরণে এবারও গভীর সমুদ্রে নামছেন মৎস্যজীবীরা। উপকূলবর্তী মৎস্য বন্দরগুলিতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ট্রলারে তোলা হচ্ছে ডিজেল, বরফ, শুকনো খাবার, পানীয় জল, রান্নার গ্যাস, ওষুধপত্র, লাইফ জ্যাকেট এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। কেউ ব্যস্ত জাল মেরামতে, কেউ আবার ট্রলারের ইঞ্জিন পরীক্ষা করে নিচ্ছেন।তবে আশার পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে বিস্তর। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের উপর। ডিজেল ও পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধি কার্যত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রলার মালিকদের কাছে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি লাগে। ফলে খরচও বেড়েছে কয়েক গুণ। পাশাপাশি ট্রলারে রান্নার জন্য গ্যাসের অনিয়মিত যোগান নিয়েও অভিযোগ উঠছে।

    ডায়মন্ড হারবারের এক ট্রলার মালিক দীপঙ্কর দাস জানান, গত বছর সেই অর্থে লাভের মুখ দেখা যায়নি। এবছর ভাল মাছের আশায় আবার সমুদ্রে নামার প্রস্তুতি চলছে। তবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও শ্রমিক সঙ্কট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর আশা, সমুদ্র সদয় হলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

    শ্রমিক সংকটও এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আগে যেখানে একটি ট্রলারে ১৫-১৬ জন শ্রমিক থাকতেন, এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছে। কারণ এলাকার বহু যুবক কাজের সন্ধানে কেরালা-সহ ভিনরাজ্যে চলে গিয়েছেন। ফলে পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন ট্রলার মালিকরা।

    সুন্দরবন মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, "যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবুও মৎস্যজীবীরা আশাবাদী, গত বছরের তুলনায় এ বছর ভালো পরিমাণ মাছ মিলবে।"

    সব প্রতিকূলতার মাঝেও নতুন আশায় সমুদ্রের পথে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৎস্যজীবীরা। ইলিশের আশায়, সংসারের হাল ফেরানোর আশায় আবারও উত্তাল সমুদ্রকে সঙ্গী করেই শুরু হচ্ছে তাঁদের নতুন লড়াই।
  • Link to this news (আজকাল)