• ৩০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা ভর্তুকি! ঘোষণা শুভেন্দুর
    আজকাল | ১৫ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া মাঠে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরের উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সভামঞ্চ থেকেই তিনি এই শিবিরের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। আগামী ১৫ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত তিন দিন ধরে চলবে এই শিবির। এ দিনের অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে 'প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর' প্রকল্পে আবেদন করার আহ্বান জানান শুভেন্দু। বলেন, "এই প্রকল্পে ৩০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হবে।"

    রাজ্যজুড়ে ১১০০টি স্থানে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মোট ৫৪টি প্রকল্পের পরিষেবা এক ছাতার তলায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ দিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থেকে শুরু করে নাগরিক পরিষেবা— সমস্ত সুবিধাই এবার সাধারণ মানুষ সহজে পাবেন। রাজ্যজুড়ে একটি 'স্বচ্ছ তালিকা' তৈরি করা হবে। শুধুমাত্র প্রকৃত প্রাপকরাই সরকারি সুযোগসুবিধা পাবেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বিগত সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, "লক্ষ্মী ভাণ্ডার প্রকল্পে বহু মৃত ব্যক্তি, বহিরাগত, এমনকি পুরুষদের নামেও টাকা দেওয়া হচ্ছিল। সেই সমস্ত অনিয়ম দূর করে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।"

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন 'মায়ের নামে গাছ' কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেন। রাজ্যজুড়ে ১ কোটি ১০ লক্ষ নতুন গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই কর্মসূচি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। ১০০ দিনের কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে এবং এবার ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিন পর্যন্ত কাজের সুযোগ মিলবে।" কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই ৮৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৭৯ লক্ষ মহিলাকে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। বাকি কাজও চলছে। প্রকৃত প্রাপকরা অবশ্যই সঠিক সময় পেয়ে যাবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বঞ্চিত প্রকৃত প্রাপকদের তিনি এই শিবিরে আবেদন করার আহ্বান জানান। অভিযোগ জানানোর জন্য সরকারিভাবে টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    শুভেন্দুর দাবি, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় কেন্দ্র সরকারের তরফে ২৪ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এক হাজার কোটি টাকা রাজ্যের হাতে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। ভাঙাচোরা রাস্তা চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি কাঠের সেতুগুলিকে পাকা ব্রিজ ও কালভার্টে রূপান্তরিত করার কথাও ঘোষণা করেন।

    পানীয় জল প্রকল্প নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "নন্দীগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পাইপলাইনের কাজ এবার শুরু হবে।" তিনি জানান, ৩৯ হাজার কোটি টাকার জল জীবন মিশন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি। হলদিয়া-নন্দীগ্রাম ফোল্ডিং ব্রিজের কাজও খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে রাজ্যের এক কোটি ৪৩ হাজার মানুষকে যুক্ত করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রেশন ব্যবস্থা সহ এ ধরনের খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের উন্নয়ন, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায় ঋণ এবং 'লাখপতি দিদি' প্রকল্পের সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিল্পায়নের জন্য জমি নীতির সরলীকরণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও তীর্থস্থানকে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনার কথা। নন্দীগ্রামে রেল প্রকল্পের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সাড়ে তিন একর জমি রেলকে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি জমি হস্তান্তর হলেই কয়েক মাসের মধ্যে নন্দীগ্রামের মানুষ রেল পরিষেবার সুবিধা পাবেন।

    এদিন রাজনৈতিক প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। মিথ্যা মামলায় যাঁরা এখনও হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাঁদের আইনিভাবে নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। সভা শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "সবকা সাথ, সবকা বিকাশ তো হোগা-ই, সবকা হিসাব ভি হোগা।"
  • Link to this news (আজকাল)