• MP'রা গেলেন NCPI-এ, স্থানীয় নেতারা মমতার সঙ্গেই!
    আজকাল | ১৫ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত প্রায় ১৫ দিন ধরে চলা 'মমতা পন্থী তৃণমূল' এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের সংসদদের মধ্যে  টানাপোড়েনের অবসান হয়েছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটের জয়ী লোকসভার ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা ত্রিপুরার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) দলে মিশে যাচ্ছেন। 

    তৃণমূল কংগ্রেসের এই বিদ্রোহী সাংসদদের দলে রয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে নির্বাচিত তিন সাংসদ-জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান ,মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খান এবং বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান। এনসিপিআই দলে যোগদান করার পরেই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন লোকসভায় তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন জানাবেন। মাত্র দেড় মাস আগেও মুর্শিদাবাদের যে তিন তৃণমূল সাংসদ  বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ওপর অত্যাচারের জন্য সরব হয়েছিলেন তাঁরাই নতুন দলে যোগ দিয়ে এনডিএ-কে  সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়।   জেলার বেশিরভাগ সাংসদ ঘনিষ্ঠ নেতাই তাঁদের সঙ্গে এনসিপিআই দলে যোগ দিচ্ছেন না। 

    মুর্শিদাবাদ জেলায় তিন তৃণমূল সাংসদের ঘনিষ্ঠ বেশিরভাগ নেতাই কেউ প্রকাশ্যে কেউ আবার নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন সাংসদদের এই আচরণ জেলার সাধারণ মানুষের মতো তাঁরাও ভাল চোখে দেখছেন না। আপাতত সাংসদদের সঙ্গে এনসিপিআই দলে তাঁরা কেউই  যোগ দিচ্ছেন না। 

    মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের একাধিক নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন, এসআইআর  পর্বে মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। এখনও প্রচুর মানুষের নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি। সংখ্যালঘু মানুষদের কাছে এখনও বিজেপি দলের গ্রহণযোগ্যতা তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাত্র দেড় মাসের মধ্যে যেভাবে তিন তৃণমূল সাংসদ সাধারণ মানুষের কোনও মতামত না নিয়ে দলত্যাগ করে এনসিপিআই নামে  নাম না শোনা দলে গিয়ে যোগ দিয়েছেন তাতে জেলার বেশিরভাগ মানুষই প্রচন্ড ক্ষুব্ধ। 

    তাঁরা বলেন, তিন তৃণমূল সাংসদের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে জেলার অনেক মানুষ নিজেদের সমাজ মাধ্যমের পাতায় সেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। জেলার বিভিন্ন জায়গার পরিস্থিতি এখন এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই তিন সাংসদের পক্ষে এখন একা কোথাও ঘুরে বেড়ানো আর সম্ভব নয়। 

    মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলে একদা আবু তাহের খান ঘনিষ্ঠ এক নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন," বলির পাঁঠা হওয়ার জন্য আমরা ওই নাম না শোনা দলে যোগ দিতে যাব না। তিন সাংসদই বাঁচার তাগিদে ওই দলে যোগ দিয়েছেন। আগামী তিন বছর বিজেপি যেভাবে চলতে বলবে সেভাবেই তাঁদেরকে চলতে হবে।" ওই নেতা বলেন," খলিলুর রহমান নিজের ব্যবসা বাঁচানোর জন্য এবং আবু তাহের খান তাঁর বিরুদ্ধে যে সমস্ত আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সেগুলো থেকে বাঁচার জন্য ওই দলে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে ইউসুফ পাঠানের পরিবারের বিরুদ্ধে গুজরাটে কিছু জমি দখল এবং অন্য অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পাঠান পরিবার গুজরাটে বিজেপিপন্থী পরিবার হিসেবেই পরিচিত। তাই তাঁর দলত্যাগ খুব একটা অবাক করার মত বিষয় নয়। "

    জেলার বেশিরভাগ তৃণমূল নেতার বক্তব্য, এখনই যদি এই তিন সাংসদ জেলায় ভোটে দাঁড়ান তাহলে তাঁদের জামানাত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। তৃণমূল স্তরের নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষ এদের কাজ অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখছে। 

    মুর্শিদাবাদের নওদা এলাকার(আবু তাহের খানের বাড়ি এই বিধানসভা এলাকায়) তৃণমূল নেতা তথা মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মধু বলেন,"সাংসদদের নতুন দলে যোগ দেওয়া নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। গোটা বিষয়টি আমরা এখন দূর থেকে দেখছি।"

    অন্যদিকে দলের নিচু তলার কর্মীরা যখন মার খাচ্ছে সেই সময় দলের সাংসদদের  ত্রিপুরার একটি অখ্যাত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে যাওয়াকে ভালো চোখে দেখছেন না জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ একাধিক তৃণমূল নেতা। 

    তাঁরা বলেন,  'এই বিপদের দিনে আমরা দলের উচ্চ নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কিন্তু তাঁরা নিজেদের পিঠ বাঁচানোর জন্য নতুন দলে চলে গেলেন। সাধারণ নেতাকর্মীদের কী হবে একবারও ভাবলেন না।'

    জঙ্গিপুরে খলিলুর রহমান ঘনিষ্ঠ দুই তৃণমূল নেতা বিকাশ নন্দ এবং সুভাষ লালা দাবি করেন, ত্রিপুরার রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার আগে খলিলুর রহমান তাঁদের  দু'জনের সঙ্গে কোনও রকম পরামর্শ বা আলোচনা করেননি। বিকাশ নন্দ বলেন, 'এখন আমরা কিছুদিন চুপ করে থাকবো। তবে এনসিপিআই দলে যোগ দেওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।'

    তবে খলিলুর রহমান ঘনিষ্ঠ একাধিক তৃণমূল নেতা আবার দাবী করেছেন, তিনি কোনও 'চাপের' মুখে পড়ে এনসিপিআই-এর মতো দলে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন। সুভাষ লালা বলেন," উনি কেন এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই। আগামী পরশুদিন সম্ভবত খলিলুর রহমান মুর্শিদাবাদ জেলায় ফিরে আসবেন। তারপর ওঁর সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কথা হবে। তবে আমরা তৃণমূল দলে ছিলাম এবং সেখানেই থাকছি। এনসিপিআই দলে যোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই উঠছে না। "

    জেলা তৃণমূলের একাধিক নেতার দাবি বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান জেলায় বরাবরই বহিরাগত নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জেলায় এলে তিনি বেশিরভাগ সময়ই প্রাক্তন বিধায়ক অপূর্ব সরকারের হাত ধরেই চলতেন এবং তাঁর ঠিক করে দেওয়া কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণ করেছেন। সাংসদদের দলের ত্যাগের পর তাঁর ভূমিকা কী হবে এই প্রশ্ন নিয়ে অপূর্ব সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

    অন্যদিকে রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বলেন," দিল্লির যে বৈঠকে আমি উপস্থিত ছিলাম সেখানে তৃণমূলের সাংসদরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এনডিএ-কে সমর্থন করবেন না। কিন্তু তারপর তাঁরা নতুন দলে যোগ দিয়েছেন। সাংসদদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কিছুই বলার থাকতে পারে না।"

    তিনি বলেন," পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেবেন এবং আমাদের কর্মপদ্ধতি কী হবে তা ঠিক করার জন্য মঙ্গলবার তৃণমূলের নতুন ব্লকে যোগ দেওয়া সমস্ত বিধায়করা কলকাতায় মিলিত হচ্ছেন , সেখানেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।"

     
  • Link to this news (আজকাল)