• NCPI বাংলাদেশি দল? বিস্ফোরক দাবি অধীরের
    আজকাল | ১৫ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’। মূলত, ত্রিপুরা কেন্দ্রিক এই রাজনৈতিক দলটির অস্তিত্বের কথা এতদিন গোটা দেশে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন লোকের জানা ছিল।

    কিন্তু রবিবার তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এই দলে যোগ দেওয়ায় রীতিমত উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। সোমবার এনসিপিআই-এর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে দাবি করা হয়, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে তাদের ২০টি আসন রয়েছে।

    বিজেপির ১২টি, তৃণমূল কংগ্রেসের আটটি, কংগ্রেসের একটি আসন রয়েছে। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে তারাই সর্ববৃহৎ সংসদীয় রাজনৈতিক দল। মাত্র কয়েক বছর আগেই এই রাজনৈতিক দলটির যাত্রা শুরু হয়েছিল।

    এরই মধ্যে এই রাজনৈতিক দলটির উৎপত্তিস্থল নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিলেন বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। সোমবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস নেতা দাবি করে বসলেন, এনসিপিআই দলটির জন্ম আসলে বাংলাদেশে। 

    অধীরের বক্তব্য, ‘বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারে বারে বাংলাদেশ থেকে ‘ঘুষপেটিয়া’ ইস্যুতে সরব হয়েছেন। তবে এখন দেখছি বাংলাদেশ থেকে শুধু মানুষ আসেনি, দলও অনুপ্রবেশ করে চলে এসেছে।’ 

    তাঁর বক্তব্য, ‘এই দলের জন্ম বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়। এখন সেই দলই দিল্লি পৌঁছে গেল। অমিত শাহের সাবধান হওয়া উচিত। কারণ, শুধু মানুষ নয় রাজনৈতিক দলও অনুপ্রবেশ করে এই দেশে ঢুকে পড়ছে। তবে ওই রাজনৈতিক দলকে আমি ‘ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বলতে রাজি নই। ‘সিটিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘চিটিজেন্স’ ব্যবহার করা উচিত। তারা মানুষকে ‘চিট’ করেছে।’ এরপরই অধীর মুর্শিদাবাদ জেলার তিন তৃণমূল সাংসদের দল পরিবর্তন নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, ‘ইউসুফ পাঠান এখানে টাকার বিনিময়ে ভোট নামক ‘ইভেন্টে’ খেলতে এসেছিল। তাঁর চুক্তি শেষ। ও কেন এখন ‘রিস্ক’ নেবে? তৃণমূল দলের সঙ্গে ওঁর চুক্তি ছিল, টাকা নাও আর আমাদের হয়ে ভোট করো। টাকা নিয়ে খেলার মত রাজনীতিও খেলা, বিজেপিতে চলে যাওয়াটাও এক ধরনের খেলা।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে যারা ওই রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন তাঁরা জানেন না আগামী তিন বছর পর তৃণমূল থাকবে কিনা। বা থাকলেও সেখানে তাঁরা টিকিট পাবেন কিনা। তাই আগামী ৩ বছর আরামে থাকা খাওয়ার জন্যই তাঁরা ওই দলে যোগ দিয়েছেন। ৩ বছর পর যদি বিজেপির দয়া হয় তাহলে আবার তাঁরা টিকিট পাবেন। তাই এখন থেকে বিজেপির পায়ে তেল মালিশ করা শুরু করেছেন। টাকা, প্রলোভন, ভয় এবং সরকারি দলের ক্ষমতা ভোগ করার জন্য কিছু লোক দল বদল করে বাংলার নাম খারাপ করছেন।’ এদিন বিজেপি সরকারকেও এক হাত নেন অধীর। তিনি বলেন, ‘এখানে তৃণমূল জামানার সঙ্গে পরিষেবার কোনও পার্থক্য হয়নি, কেবল রং বদল হচ্ছে। বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে কিছুই দিতে পারবে না। তারা অন্নপূর্ণার ভান্ডার এখানে সকলকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, অথচ বেশিরভাগ লোকে পায়নি। দেশের প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে অনুদানের রাজনীতি বন্ধ করার কথা বলেছিলেন। অথচ বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি এই রাজ্যে সব থেকে বেশি অনুদান বন্টনের কথা বলেছিল।’

    অধীরের অভিযোগ করেন, ‘ভোট শেষ, বিজেপির গল্পও শেষ। এখন হকারদের ওপর সব থেকে বেশি অত্যাচার নেমে আসছে। অথচ, সরকারি চাকুরিজীবীদের ডিএ প্রদান, নতুন নিয়োগ এবং বেকার ভাতা দেওয়ার ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে।’
  • Link to this news (আজকাল)