• হাওড়া না ত্রিপুরা, কোথায় উৎপত্তি এনসিপিআইয়ের?
    আজকাল | ১৫ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘জাগো বিশ্ব’-র কাজের আড়ালে চলত রাজনৈতিক সলতে পাকান? বর্তমানে বাংলা-দিল্লিতে বহুচর্চিত দল এনসিপিআই। সেই দলের সদর দপ্তরের হদিস মিলল হাওড়ায়। বাংলায় পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন অব্যহত। বিধায়কের পর বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের সিংহভাগ সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগদান করছেন। প্রথমে জানা যায়, এনসিপিআই ত্রিপুরার একটি রাজনৈতিক দল। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, এনসিপিআই রাজনৈতিক দলের উৎপত্তি হাওড়ার সাঁকরাইলের হাটগাছা।  

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে উত্তীয় কুন্ডুর হাত ধরে হাওড়ায় আত্মপ্রকাশ এনসিপিআই দলের। পঞ্চায়েত নির্বাচনে সাঁকরারাইল ব্লকের ঝোড়হাট গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে প্রায় ১০-১১ জন প্রার্থী নিরবচ্ছিন্ন লড়াই করেন। ওই প্রার্থীরা তখন এই দল সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানতেন না। যাঁরা সেই সময় এই দলের হয়ে নির্বাচনে লড়াই করেছিলেন তাঁদের জানানো হয় যে, ত্রিপুরার একটি রাজনৈতিক দল এনসিপিআই। এবার সেই দলে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সংসদরা। জানা গিয়েছে, ‘জাগো বিশ্ব’-র কার্যালয় থেকেই পরিচালনা করা হয় দল। এনসিপিআইয়ের সভাপতি হিসেবে নাম উঠে এসেছে উত্তীয় কুণ্ডু এবং শান্তনু দের। দলের কোষাধক্ষ্য ছিলেন শিউলি কুণ্ডু।

    গত পাঁচ বছর যাবত যেখান থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিভিন্ন কাজকর্ম চলছিল। সেখানেই এনসিপিআই দলের কার্যালয়। ২০২৩ সালে যে ভবন থেকে পঞ্চাতে নির্বাচনে লড়াই করে। সেই স্থানই এনসিপিআই দলের সদর দপ্তর! এই খবরে রীতিমতো অবাক স্থানীয় মানুষরা। যে দলকে বিগত পঞ্চায়েতে নির্বাচনে প্রার্থী খুঁজতে বেগ পেতে হয়েছে, বিভিন্ন দলের কর্মী এবং অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নামানো হয়েছে, সেই দলে তৃণমূল বিক্ষুব্ধ সাংসদরা!  স্থানীয়দের কথায়, এই অফিস থেকে মহিলা এবং শিশুদের উন্নয়নে নানা কাজকর্ম চলত। বিভিন্ন জেলা থেকে বহু মানুষ আসতেন। এখানে কখনও কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আসতে দেখা যায়নি। তবে ২০২৩ নির্বাচনে বিজেপি দল ভাঙিয়ে প্রার্থী করা হয়েছিল এনসিপিআই দলে। তাদের মধ্যে একজন হলেন মিন্টু বেরা।

    এ প্রসঙ্গে মিন্টু বেরা জানান, এই দলের হয়ে নির্বাচনে লড়াইয়ে শামিল ২০২৩ সালে। নির্দেশ ছিল অন্য কোনও রাজনৈতিক দলকে কাদা ছেঁটানো নয়। স্থানীয় উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবে এই দল। উত্তীয় কুন্ডুর হাত ধরে দলে যোগ দেওয়ার পরে তিনিই ছিলেন সর্বেসর্বা। জানা গিয়েছে, মিন্টুর শুনে সেই সময় এলাকার পুরুষ-মহিলা অনেকই যুক্ত হন এবং নির্বাচনে লড়াই করেন। যদিও নির্বাচনে কোনও প্রার্থী জয় আনতে পারেননি। ভোট পরবর্তীতে তাঁরা ধীরে ধীরে দলীয় কাজকর্ম থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি আরও জানান যে, সেই সময় ভোটের আগে বা পড়ে অন্য কোনও দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা এনসিপিআই দলেরও কোনও নেতার সঙ্গে সাক্ষাতও হয়নি।

    ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়ার(এনসিপিআই) ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনেও প্রার্থী দিয়েছিল। তবে বর্তমানে ত্রিপুরা-সহ অসম, বাংলা, উত্তর-পূর্বাঞ্চল-সহ বিভিন্ন এলাকায় সংগঠন রয়েছে এই দলের। দেব, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, পার্থ ভৌমিকের মতো বড় নাম এবার এই দলটির সঙ্গে জুড়ে যাওয়ায় বাংলায় এর সংগঠন যে আরও শক্তিশালী হবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। 
  • Link to this news (আজকাল)