প্রেসক্রিপশন অডিটে নয়া সফটওয়্যার হাসপাতালে, এক ক্লিকেই মিলবে রোগীর যাবতীয় তথ্য
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৫ জুন ২০২৬
রোগীর প্রেসক্রিপশন অডিটের নতুন সফটওয়্যার নিয়ে স্বাস্থ্যভবনে যে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ চলছিল তা শেষ হয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে প্রেসক্রিপশন ট্র্যাকিং সফটওয়্যার চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়। এই সফটওয়্যারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছিল রাজ্যের ১০টি হাসপাতাল। সেই প্রশিক্ষণ শেষে এবার প্রাথমিকভাবে ট্রায়াল মোডে শুরু হচ্ছে প্রেসক্রিপশন অডিট সফটওয়্যার।
দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা করাতে আসার সময় প্রেসক্রিপশন সহ গুচ্ছের কাগজপত্র সঙ্গে করে আনা রোগীর ক্ষেত্রে ঝক্কির বিষয়। সেক্ষেত্রে এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে সব প্রেসক্রিপশন থাকবে হাসপাতালের কম্পিউটারেই। এছাড়া কোন রোগীকে কত পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছে, তার রেকর্ডও থেকে যাবে এই সফটওয়্যারে। তার ফলে আগামী দিনে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার কমানো যাবে বলে মত স্বাস্থ্যভবনের।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সরকারি ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল স্বাস্থ্যভবন। অভিযোগ ছিল, প্রেসক্রিপশনে বহু চিকিৎসকের হাতের লেখা অস্পষ্ট। পড়া যাচ্ছে না ওষুধের নাম। আবার দেখা গিয়েছিল, জেনেরিক ওষুধের নাম না লিখে লেখা হচ্ছে ওষুধের ব্র্যান্ডের নাম। এমনকি রোগীর কী রোগ হয়েছে তাও বোঝা যাচ্ছে না প্রেসক্রিপশন দেখে। স্বাস্থ্যভবনের এমন পর্যবেক্ষণের পরেই চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে নয়া প্রেসক্রিপশন ট্র্যাকিং সফটওয়্যারের কথা ভাবা হয়।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই স্বাস্থ্যভবনে রাজ্যের প্রায় ১০টি মেডিক্যাল কলেজকে ডাকা হয়েছিল। এই ১০টি হাসপাতালের মধ্যে ছিল ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ, দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল, সিউড়ি সদর হাসপাতাল সহ আরও একাধিক হাসপাতাল। হাসপাতালে যে নতুন প্রেসক্রিপশন ট্র্যাকিং সফটওয়্যার চালু হবে তার প্রশিক্ষণ নিতে প্রতিটি হাসপাতালের আধিকারিকরা উপস্থিত হয়েছিলেন স্বাস্থ্যভবনে। মূলত এই সফটওয়্যারে আপলোড করা হবে রোগীর প্রেসক্রিপশন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রোগী কতদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তাঁকে কী ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছে, সবই এই প্রেসক্রিপশন ট্র্যাকিং সফটওয়্যারে জানা যাবে। রোগীর নির্দিষ্ট আইডি থাকবে, আর সেই আইডি দিলেই সফটওয়্যারে চলে আসবে রোগীর প্রেসক্রিপশন। রোগীদের সুবিধার্থেই এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে আরও বেশ কিছু হাসপাতালের আধিকারিকদের সফটওয়্যার প্রশিক্ষণে ডাকা হবে বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেডের ব্যবস্থা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন কোনও রোগীকে বেডের অভাব থাকার অজুহাতে ফেরানো যাবে না। অন্য হাসপাতালে বেডের ব্যবস্থা করে দিতে রোগীকে। এর পাশাপাশি কোন হাসপাতালে কত বেড রয়েছে, কত বেড ভর্তি, কটা খালি রয়েছে সেই বিষয়ে নজর রাখতে হবে। স্বাস্থ্যভবনের এই নতুন সফটওয়্যার এইসব নজরদারির ক্ষেত্রে এক অনন্য পদক্ষেপ।