‘আগামী ৬ মাসের মধ্যে কলকাতা পুরসভায় ভোট হবে’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৫ জুন ২০২৬
কলকাতা পুরসভায় সোমবার পা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সামনেই আছে যোগ দিবস। তাতে কলকাতায় আসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাই কলকাতা পুরসভা স্বচ্ছতা নিয়ে কেমন প্রস্তুতি নিয়েছে তা জানতেই কলকাতা পুরসভায় প্রথমবার উপস্থিত হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৪৪ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সেখানে ডাকা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পদত্যাগী মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার-সহ অন্যান্যরা। আর এখান থেকেই কলকাতা পুরসভার ভোটের দামাম বাজিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে এখান থেকেই কলকাতাজুড়ে বিশেষ সাফাই অভিযান কর্মসূচি ‘স্বচ্ছতাকে স্বাগত’ শীর্ষক অভিযান শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী আসার আগে কলকাতা জুড়ে বিশেষ সাফাই অভিযান শুরু হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানেই একসারিতে দেখা গেল ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীতে থাকা সন্দীপন সাহা, মালা রায়কে। তবে কেউ কারও সঙ্গে কথা বলেননি। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এখানে আসতে পেরে আমি আপ্লুত। ২০১৭ সালে শেষ পুরসভায় এসেছিলাম। এখানে এপক্ষ-ওপক্ষ নেই। লক্ষ্য শুধু উন্নয়ন। সব দলের বিরোধীরা আজ এখানে এসেছেন।’
অন্যদিকে আগামী ২১ জুন কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যোগ দিবস উপলক্ষ্যে আসছেন তিনি। তাই গোটা রাজ্য সাজিয়ে তুলতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই কলকাতা পুরসভায় এসে সেই বার্তাই দিয়েছেন। এদিন শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘আগামী ২১ তারিখ যোগ দিবসে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে আমরা স্বচ্ছতা দিয়ে আহ্বান জানাব। যোগ দিবসে কলকাতায় মেগা ইভেন্ট আছে। বিশ্ব যোগ দিবস এবার কলকাতা পুরসভায় হবে। আগে ভারতবর্ষের কালচারাল ক্যাপিটল ছিল কলকাতা। আবার কলকাতাকে সেই স্তরে নিয়ে যাব।’
তাছাড়া কলকাতা পুরসভার বোর্ড এখন ভেঙে গিয়েছে। কারণ পদত্যাগ করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তারপর থেকে প্রশাসক হিসাবে কাজ করছেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। স্বাভাবিকভাবেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন কবে হবে? এই প্রশ্ন সকলের মধ্যেই ছিল। এটা বুঝতে পেরেই মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘কলকাতা পুরসভায় এখন অচলাবস্থা। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশন আইন মেনে কলকাতা পুরসভার নতুন পুর বোর্ডের হাতে ক্ষমতা তুলে দেবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন বা ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। উন্নয়নের স্বার্থে কোনও আলাদা পক্ষ বা দল হতে পারে না। এখানে আমরা সবাই মিলে এক পক্ষ। আমি একা কিছু নই, আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কলকাতার মানুষের জন্য কাজ করব। কারণ, গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষই শেষ কথা বলে।’