বর্ষা আছে, বৃষ্টি নেই! উপগ্রহের পাঠানো ছবিতে বাড়ছে উদ্বেগ, মেঘের ‘ভিলেন’ কে?
প্রতিদিন | ১৫ জুন ২০২৬
আকাশজুড়ে কালো মেঘের ঘনঘটা। দিনভর ঝিরঝিরে বৃষ্টি। বর্ষার ছবি তো এমনই। তবে মৌসম ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষা ঢুকে পড়লেও, বৃষ্টির দেখা নেই বললেই চলে। সম্প্রতি উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে এমনই ছবি। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, আকাশে কোনও মেঘ তৈরিই হচ্ছে না। তবে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের উপরে যথেষ্ট জলীয় বাষ্প রয়েছে।
খাতায়কলমে দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষা ঢুকে পড়লেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে না। উলটে গরমের অস্বস্তি বেড়েছে মারত্মক। দেশের মধ্য, দক্ষিণ ও পূর্বের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুধুমাত্র উত্তর-পূর্বে বৃষ্টি হচ্ছে। গত ৪ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত এই সময়সীমার মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ৫৩.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা। তবে এই সময়কালে দেশে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৯.২ মিলিমিটার। অর্থাৎ বৃষ্টিতে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশ।
১৫ জুন কৃত্রিম উপগ্রহে যে ছবি ধরা পড়েছে, তাতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভরা বর্ষা থাকলেও, এই সময় দেশের আকাশে যে ধরনের মেঘের ঘনঘটা থাকার কথা, তা একেবারেই উধাও! অধিকাংশ এলাকাতেই আকাশ ঝকঝকে পরিষ্কার। ফলে আপাতত বিন্দুমাত্র বৃষ্টির সম্ভাবনা যে নেই, তা বলাই বাহুল্য। হিমালয়ের উপর উত্তর-পূর্ব ভারতে ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশে মেঘ জমতে দেখা গিয়েছে উপগ্রহ চিত্রে। প্রতি বছরের মতোই কেরল হয়ে দেশের মূল ভূ-খণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করেছিল। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণেও বর্ষা ঢুকে গিয়েছে। জলীয় বাষ্পে কোনও ঘাটতি নেই। তাহলে সমস্যা কোথায়?
কী বলছেন আবহবিদরা?
সমস্যা লুকিয়ে ভূপৃষ্ঠের কয়েক কিলোমিটার উঁচুতে অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলে। পশ্চিমা বায়ুকেই সমস্যার প্রধান ‘ভিলেন’ বলছেন আবহবিদরা। এই বায়ু স্বাভাবিক অবস্থানের চেয়ে অনেক দক্ষিণে সরে গিয়েছে। তার ফলে পূর্বমুখী বায়ু স্রোতে বাধা দিচ্ছে। এই পূর্বমুখী বায়ু ভারতে মৌসুমী বায়ুর প্রবাহ, মেঘ তৈরি ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করে। এই বায়ুর প্রবাহেই বর্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। আর তাতেই বাধা দিচ্ছে পশ্চিমা বায়ু। যার জেরে বাতাসে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প থাকলেও বৃষ্টি হচ্ছে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী নয় বলেই জানিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে পশ্চিমা বায়ু দুর্বল হলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে।