• ‘তৈরি হবে স্বচ্ছ তালিকা, থাকবে না মধ্যস্বত্বভোগী’, নন্দীগ্রামে ‘জনকল্যাণ’ বার্তা শুভেন্দুর
    প্রতিদিন | ১৫ জুন ২০২৬
  • পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্প ছিল। তবে বহুক্ষেত্রেই তার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃতরা। তার বদলে প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করেছেন অন্যান্যরা। তাই রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর যাতে কোনওভাবে আর্থিক সাহায্য কোনও অসাধু ব্যক্তির হাতে না পড়ে সেটাই লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। তাই ‘জনকল্যাণ শিবিরে’ (Jan Kalyan Shivir) সশরীরে উপস্থিত হয়ে সামাজিক প্রকল্পের সুযোগ নেওয়ার আর্জি তাঁর। সোমবার নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় ‘জনকল্যাণ শিবিরে’র উদ্বোধন করে একথা বলেন তিনি।

    তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ভুরি ভুরি আর্থিক তছরূপের অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, “রাজ্যের ১১০০ টি স্থানে শিবির হচ্ছে। সরকারের ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এই শিবির। অতীতে সরকারি টাকা যোগ্য প্রাপকদের কাছে পৌঁছত না। মৃত, অভারতীয়, পুরুষরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন। পুরুষদেরও বিধবা ভাতা দিয়েছে। ডোমকলের একটি ব্লকে সাড়ে ৩ হাজার ভুয়ো অ্যাকাউন্ট। যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই দুর্নীতি আগের সরকারের।” বর্তমানে ঠিক কোন লক্ষ্যে সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা নিতে নানা তথ্য় চাওয়া হচ্ছে, সে কারণও ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা চাই না অনুপ্রবেশকারী অন্নপূর্ণা যোজনা পান কোনও অভারতীয়। কিংবা এমন কেউ যারা অবাচ্চাদের ভ্যাকসিনেশন করান না। তাঁরা কেন সরকারি সুবিধা পাবেন?” তাঁর লক্ষ্য, “সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেতে কোথাও কোনও মধ্যস্বত্ত্বাভোগী থাকবে না। প্রকৃত মানুষ সামাজিক প্রকল্পের সুযোগ পান চাইব। সহযোগিতা করুন, আমরাও সহযোগিতা করব।”

    আগামী দিনে বাংলার মানুষ কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন সে সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৭৯ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় নাম নথিভুক্তির সুযোগ। সমীক্ষায় বেনিয়ম হলে সরকারের টোল ফ্রি নম্বরে অভিযোগের সুযোগ পাওয়া যাবে। আগামিদিনে রাস্তাঘাট সুন্দর ও সংস্কারের কাজ আমরা করব। বাড়িতে পরিশ্রুত জল পৌঁছে দেব। সব সেক্টরে, সব এলাকায় আমরা কাজ করছি। স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতিতে আমরা কাজ করছি। জুলাই মাস থেকে পাওয়া যাবে আয়ুষ্মান কার্ড। ২২ জুনের বাজেটেও থাকবে বিশেষ চমক।” এছাড়া ভবিষ্যতে রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনই ব্যবসার উন্নতিতে লোন দেওয়ার ব্যবস্থাও হবে বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী।
  • Link to this news (প্রতিদিন)