• রামপুরহাটে স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে সাপের কামড়! তীব্র আতঙ্ক, চত্বর জুড়ে ছড়াল চরম উত্তেজনা
    News18 বাংলা | ১৫ জুন ২০২৬
  • : বীরভূমের রামপুরহাট ব্লকের মাসড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে গেল এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। স্কুল চলাকালীন সাপের কামড়ে জখম হল তৃতীয় শ্রেণির এক পড়ুয়া। জখম ছাত্রীর নাম নিশা খাতুন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন সহপাঠী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়, তেমনই অন্যদিকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবক ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা।

    স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতোই আজ সোমবার সকালে স্কুলে এসেছিল তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নিশা খাতুন। ক্লাস শুরুর আগে স্কুল চত্বরেই সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল সে। অভিযোগ, সেই সময়ই মাঠের পাশে লুকিয়ে থাকা একটি সাপ তাকে কামড়ে দেয়। নিশার চিৎকার শুনে সহপাঠী এবং শিক্ষকরা দ্রুত ছুটে আসেন। ঘটনা জানাজানি হতেই গোটা বিদ্যালয় চত্বরে হুড়োহুড়ি ও আতঙ্ক পড়ে যায়। এরপর আর সময় নষ্ট না করে, আতঙ্কিত ছাত্রীটিকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে সে।

    এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই স্কুলের সামনে জড়ো হন উত্তেজিত অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা। প্রধান শিক্ষক ও উপস্থিত শিক্ষকদের ঘিরে ধরে চলে তুমুল বিক্ষোভ। ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না। চারপাশ আগাছা ও ঘন ঝোপঝাড়ে জঙ্গল হয়ে রয়েছে, বাথরুমের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ও অপরিষ্কার। এমনকি, ছোট ছোট শিশুরা যেখানে বসে মিড-ডে মিলের টিফিন খায়, সেই স্থানটিও দিনের পর দিন আবর্জনায় ভরে রয়েছে। বারবার বলা সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে কোনো হেলদোল দেখায়নি, আর সেই গাফিলতির কারণেই আজ এই দুর্ঘটনা ঘটল।

    বিক্ষোভের পারদ চড়তেই স্কুলের আরও একাধিক পরিকাঠামোগত খামতি নিয়ে সরব হন গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়টিতে মোট ১৬৭ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে, কিন্তু তাদের দেখভালের জন্য রয়েছেন মাত্র তিনজন শিক্ষক। অভিযোগ, এই শিক্ষকরাও নিয়মিত ও সঠিক সময়ে স্কুলে উপস্থিত থাকেন না। পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবেই শিশুরা বারবার বিপদের মুখে পড়ছে। এলাকার মানুষের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে বিদ্যালয় চত্বরের সমস্ত ঝোপঝাড় কেটে সাফ করতে হবে, বাথরুম ও টিফিন খাওয়ার জায়গা জীবাণুমুক্ত করতে হবে এবং স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করে শিশুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন যদি দ্রুত এই বিষয়ে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেয়, তবে আগামী দিনে স্কুল স্তব্ধ করে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। এই ঘটনার পর থেকে মাসড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)