• নিমপাতা আর গোবর দিয়ে তৈরি হবে অব্যর্থ ‘নিমাস্ত্র', হু-হু করে বাড়বে মাটির গুণ
    News18 বাংলা | ১৫ জুন ২০২৬
  • জৈব পদ্ধতিতে কৃষিতে জোর, বসিরহাটে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই চাষাবাদকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবার আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন ব্লকের কৃষি দফতরের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা’, যেখানে কৃষকদের জৈব পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট-২ নম্বর ব্লক কৃষি দফতর অফিসে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বহু কৃষক অংশগ্রহণ করেন। হাতে-কলমে প্রদর্শনের পাশাপাশি আধুনিক কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মাধ্যমে প্রাকৃতিক কৃষির কৌশল, জৈব সারের ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব চাষের গুরুত্ব তুলে ধরেন কৃষি বিশেষজ্ঞ ও আধিকারিকরা। অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহারে জমির উর্বরতা হ্রাস, মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের উপর তার বিরূপ প্রভাব সম্পর্কেও কৃষকদের সচেতন করা হয়।

    প্রশিক্ষণে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় গোবর সার, নিমপাতা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে জৈব সার ও ‘নিমাস্ত্র’ তৈরির পদ্ধতির ওপর। কীভাবে স্বল্প খরচে এই উপকরণগুলি তৈরি করে জমিতে প্রয়োগ করা যায় এবং তার মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন ও গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক কৃষি গ্রহণ করলে মাটির জীববৈচিত্র্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা বাড়ে বলেও জানানো হয়। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন আইএএস আধিকারিক হৃষিকেশ মোদি, ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বিপ্লব বসাক, সহ কৃষি অধিকর্তা পবন মজুমদার -সহ কৃষি দফতরের একাধিক আধিকারিক ও কর্মীরা।

    তারা কৃষকদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মাঠ পর্যায়ে জৈব পদ্ধতি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। আধিকারিকদের বক্তব্য, ভবিষ্যতের কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করে তুলতে প্রাকৃতিক কৃষির প্রসার অত্যন্ত জরুরি এবং সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে এমন সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। কৃষকদের একাংশের মতে, এই ধরনের প্রশিক্ষণ নতুন প্রযুক্তি ও প্রাকৃতিক পদ্ধতির সমন্বয়ে চাষাবাদকে আরও সহজ ও কার্যকর করে তুলবে। একই সঙ্গে রাসায়নিকের উপর নির্ভরতা কমিয়ে সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের পথও সুগম হবে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)