মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার দিঘায় শুভেন্দু অধিকারী। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে যোগ দেন তিনি। রবিবারের এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
দিঘা পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্য পরিষেবার মান নিয়ে অনেক অভিযোগ ছিল। একদিকে স্থানীয় মানুষ অন্যদিকে বহুল পর্যটকদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থাকলেও তার পরিষেবা ও মানোন্নয়নে খামতি ছিল। তবে বর্তমান রাজ্য সরকার পর্যটকদের কোনওরূপ অভিযোগ রাখতে চান না। দিঘায় আরও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে তৎপর হল রাজ্য সরকার। দিঘায় বেড়াতে এসে অনেক সময় পর্যটকরা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেক সময় সমুদ্রে স্নান করার সময় পর্যটকদের তালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি পর্যটকদের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে সমুদ্রে তলিয়ে গিয়ে। আবার দিঘা ও তার আশেপাশের স্থানীয় মানুষেরও উন্নত চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে ছুটে যেতে হত। দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতাল থাকলেও, তার পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়ে কিছু খামতি ছিল। তাই দিঘার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে। দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতাল একটি ১০০ বেডের অত্যাধুনিক মানের উন্নত হাসপাতালে রূপান্তর হতে চলেছে। শুধু শয্যা বাড়ানোই নয়, সেখানে চিকিৎসার গুণগত মানকে বিশ্বমানের করে তোলা হবে।
এবার থেকে দিঘার হাসপাতালেই মিলবে নিউরো (স্নায়ুরোগ), অর্থোপেডিক (অস্থিরোগ) এবং জটিল সার্জিক্যাল পরিষেবা। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী জানান, “দিঘা স্টেস্ট জেনারেল হাসপাতলে কোনও রোগীকে যাতে চিকিৎসার অভাবে সমস্যায় পড়তে হবে না। এখান থেকে অন্য হাসপাতালে যাতে রেফার করতে না হয়, তার জন্য হৃদরোগ, সার্জারি এবং স্নায়ুরোগের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেখানে স্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যায় দক্ষ নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীও নিয়োগ করা হবে। জরুরি অবস্থায় রোগীদের দ্রুত স্থানান্তরের জন্য দিঘায় মজুত থাকবে আধুনিক এসি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা।”
এর পাশাপাশি তিনি আরও জানান, “হাসপাতালের পরিকাঠামোকে এতটাই শক্তিশালী করছি যে, সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে পর্যটকরা যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করেন। সেই সঙ্গে এলাকার মানুষ উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে। দিঘার উন্নয়ন রাজ্যের অগ্রাধিকার। আমরা দিঘাকে শুধু সৌন্দর্যে নয়, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাতেও দেশের সেরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। ” সব মিলিয়ে দিঘায় উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা পাওয়া গেলে উপকৃত হবে উপকূলের মানুষদের পাশাপাশি দিঘায় আসা পর্যটকেরা।