কাল পর্যন্তও ছিল ‘এনজিও’, আজ রাজনৈতিক দল! বিক্ষুব্ধ তৃণমূলীদের দল NCPI-কে ঘিরে জোর চর্চা, হাওড়ায
News18 বাংলা | ১৫ জুন ২০২৬
হাওড়ার সাঁকরাইলের একটি ছোট্ট অফিসকে ঘিরে এখন বড় রাজনৈতিক জল্পনা। যে ঠিকানা থেকে বছরের পর বছর ধরে চলত একটি এনজিওর কার্যকলাপ, সেই ঠিকানাই আজ এনসিপিআই-এর দলীয় কার্যালয়। আর সেই দলেই একে একে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সামাজিক কাজের আড়ালে কি দীর্ঘদিন ধরেই তৈরি করা হচ্ছিল রাজনৈতিক জমি?
জানা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছর ধরে সাঁকরাইলের ওই কার্যালয় থেকেই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নানা সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হত। স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, রুটি-রুজি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নের বিষয় নিয়ে কাজ করত সংগঠনটি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক কার্যকলাপও বাড়তে থাকে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
২০২৩ সালে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজি ও অধিকার রক্ষার দাবিকে সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার ঘোষণা করে এনসিপিআই। সেই সময় থেকেই সংগঠনটির রাজনৈতিক অভিমুখ স্পষ্ট হতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে সংগঠনটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য, প্রথমে এটি শুধুমাত্র একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু পরে রাজনৈতিক সভা, কর্মসূচি ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়তে থাকায় বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বহুদিন ধরেই সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত ছিল। মানুষের পাশে থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক কার্যকলাপও ধীরে ধীরে বাড়তে দেখা গিয়েছে।
এদিকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের ডাক দিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিক্ষুব্ধ সাংসদ। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে সাঁকরাইলের এই ঠিকানা এবং তার অতীত কার্যকলাপ।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের সামাজিক কাজের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিজেদের বিস্তার ঘটানোর চেষ্টা করেছে এনসিপিআই। যদিও সংগঠনের সমর্থকদের দাবি, মানুষের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন ও সামাজিক কাজের ধারাবাহিকতা থেকেই তাদের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
সামাজিক সংগঠন থেকে রাজনৈতিক দল, আর সেই দলের হাত ধরেই বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের স্বপ্ন। সাঁকরাইলের এই ঠিকানাকে ঘিরে এখন বাড়ছে কৌতূহল। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের যোগদানের পর এনসিপিআই-কে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে এই নতুন সমীকরণ রাজ্যের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
এ প্রসঙ্গে মিন্টু বেরা জানান, এই দলের হয়ে নির্বাচনে লড়াইয়ে শামিল ২০২৩ সালে। নির্দেশ ছিল অন্য কোনও রাজনৈতিক দলকে কাদা ছেটা-ছিটি নয়। স্থানীয় উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবে এই দল। দলে যুক্ত হওয়া উত্তীয় কুন্ডু’র হাত ধরে তিনিই ছিলেন সর্বেসর্বা। ওনার কথা শুনে সেই সময় এলাকার পুরুষ-মহিলা অনেকই যুক্ত হন এবং নির্বাচনে লড়াই করেন। যদিও নির্বাচনে কোনও প্রার্থী জয় আনতে পারেনি। ভোট পরবর্তীতে ধীরে ধীরে দলীয় কাজকর্ম থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি আরও জানা যায়, সেই সময় ভোটের আগে বা পড়ে অন্য কোনও দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা এনসিপিআই দলেরও কোনও নেতার সঙ্গে সাক্ষাতও হয়নি।