মালদহের ‘গুপ্ত বৃন্দাবনে’ উপচে পড়ছে ভক্তদের ভিড়, ১৭ জুন পর্যন্ত চলবে বিশাল উৎসব
News18 বাংলা | ১৫ জুন ২০২৬
আনুষ্ঠানিক সূচনা হল মালদহের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন ‘রামকেলি মেলা’র। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের গৌড়ের রামকেলি ধামে আগমন তিথিকে স্মরণ করে প্রতিবছরের মতো এবারও সরকারি উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এবছর রামকেলি মেলা ৫১২ বছরে পদার্পণ করল। দেশের অন্যতম বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত রামকেলি ‘গুপ্ত বৃন্দাবন’ নামেও খ্যাত।
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৫ জুন মহাপ্রভু চৈতন্যদেব তৎকালীন বাংলার রাজধানী গৌড়ে আগমন করেন। এখানে এসে তিনি সুলতান হুসেন শাহের দুই মন্ত্রী রূপ ও সনাতনকে বৈষ্ণব মন্ত্রে দীক্ষিত করেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় রামকেলি মেলা ও উৎসব। মেলা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক ভক্ত ও দর্শনার্থী রামকেলিতে সমবেত হন। এখানে আজও সংরক্ষিত রয়েছে মহাপ্রভুর পদচিহ্ন।
এছাড়াও যে কদমগাছের তলায় তিনি রূপ ও সনাতনকে দীক্ষা দিয়েছিলেন, সেই শতাব্দীপ্রাচীন কদমগাছ এখনও ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। রামকেলিতে রাজ্য পর্যটন দফতরের উদ্যোগে মহাপ্রভুর পূর্ণাবয়ব মূর্তি নির্মিত হয়েছে। প্রাচীন গৌড় নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এই মেলা। এবছর মালদহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী জোয়েল মুর্মু, সাংসদ খগেন মুর্মু, জেলাশাসক রাজনবীর কাপুর সিং, জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং, স্থানীয় বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ী-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা।
বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ী জানান, “বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান রামকেলিতে বৃন্দাবনের আদলে সাতটি কুণ্ড রয়েছে। তাই একে ‘গুপ্ত বৃন্দাবন’ বলা হয়। প্রতিবছর এই মেলায় লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে।” প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত চলবে রামকেলি মেলা। মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন কীর্তন, বাউল গান এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। ফলে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি উৎসবের আবহে মুখর হয়ে উঠেছে সমগ্র রামকেলি এলাকা।