বর্ধমানে তৈরি হবে গোশালা-গোভাগাড়! ব্যাপক সুবিধাই বদলে যাবে গ্রামীণ অর্থনীতি, বাড়বে লাভের অঙ্ক
News18 বাংলা | ১৫ জুন ২০২৬
: গোপালন থেকে দুধের ব্যবসা, শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান, একাধিক উন্নয়নের সম্ভাবনার কথা সামনে এল। আগামী দিনে পশুপালন, দুগ্ধ উৎপাদন, শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক সচেতনতার উপর জোর দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানাল বঙ্গীয় যাদব মহাসভা। সংগঠনের প্রতিনিধিদের দাবি, গবাদি পশুপালন ও দুধ উৎপাদনকে আরও লাভজনক করে তুলতে গোশালা গঠন, পশুসম্পদের বৈজ্ঞানিক পরিচর্যা এবং আধুনিক পদ্ধতিতে দুধ উৎপাদনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একইসঙ্গে সমবায় ভিত্তিক দুধের ব্যবসার প্রসার ঘটান গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং বহু মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
সংগঠনের মতে, পশ্চিমবঙ্গে দুগ্ধ শিল্পের পরিকাঠামো আরও উন্নত হলে উৎপাদকরা বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে পশুপালক ও দুধ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে। সংগঠনের অল ইন্ডিয়া জেনারেল সেক্রেটারি দীনেশ যাদব বলেন, “গোপালনের জন্যও আমরা দ্রুততার সঙ্গে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে আসব।আর শিক্ষাগতভাবেও আমি আজ আপনাদের সামনে আশা প্রকাশ করছি যে আমাদের পরবর্তী যে অভিযান এই বেঙ্গলে থাকবে, তা হল যাতে বেশি থেকে বেশি মানুষ ইউপিএসসি এবং এখানকার বেঙ্গলের যে সার্ভিস কমিশন আছে, তাতে যেন বেশি থেকে বেশি মানুষ আসে এবং তাতে পার্টিসিপেট করে সফল হয়।”
শিক্ষাক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান হয়েছে। যুব সমাজকে ইউপিএসসি, ডব্লিউবিসিএস-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ছাত্রছাত্রীদের সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কলকাতায় পরিচালিত ছাত্রাবাসের মাধ্যমে পড়ুয়াদের আবাসন ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও বাল্যবিবাহ, কুসংস্কার এবং শিক্ষার অভাবের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া মানুষদের মূলস্রোতে নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করার কথাও জানান হয়েছে।
সংগঠনের বর্ধমান জেলা সভাপতি সাক্ষীগোপাল ঘোষ বলেন, “গোশালা হবে এবং গোশালা-সহ আরও যে সমস্ত গোকুল মিশন এবং এই যে বিভিন্ন রকম প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের আছে সেটা রাজ্য সরকার সবটা চালু করছে এবং বর্ধমান জেলায় এ ব্যাপারে গোভাগাড় হবে। যেটা সমস্ত কিছু গরু মৃত্যুর পরে তার সংস্কার করার জন্য যে জায়গা ছিল না অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিভাবে তার দূষণ ছড়ায় এগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে তার ব্যবস্থা হবে সরকারের কাছে আমরা দাবি করব।”
বঙ্গীয় যাদব মহাসভার দাবি, পশুপালন, দুধ উৎপাদন, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন এই চারটি ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা গেলে আগামী দিনে বহু পরিবার স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।উল্লেখ্য, কাটোয়া শহরের সংহতি মঞ্চে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় যাদব মহাসভার রাজ্য কার্যকারিণী সভা উপলক্ষে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই বিষয়গুলি তুলে ধরেন।