বিশ্বজুড়ে ঘুরবে ‘মাস্কের’ সন্তান! দেখে অবাক হলেও এমনটাই শখ ট্রিলিয়নিয়ারের। কথায় আছে—‘টাকা থাকলে নাকি বাঘের দুধও কেনা যায়।’ এই চলতি কথাটিকেই বাস্তবে প্রতিফলিত করতে চলেছেন টেসলা (Tesla) আর স্পেস-এক্স (SpaceX)-এর CEO ইলন মাস্ক। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ জানলে আপনার ‘চক্ষু চড়ক’ গাছ হতে বাধ্য। বর্তমানে ইলন মাস্কের সম্পত্তির পরিমাণ ১.১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ আনুমানিক ১১৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হলে কী হবে, তাঁর রাতের ঘুম কেড়েছে সম্পূর্ণ অন্য একটি চিন্তা। দুনিয়ায় মানুষ কমে যাচ্ছে! আর এই জনসংখ্যা বাড়াতে তিনি এখন এক অদ্ভুত মিশন হাতে নিয়েছেন। তিনি চান বিশ্বজুড়ে তাঁর শুক্রাণু বা স্পার্ম ছড়িয়ে দিতে।
ইলন মাস্ক যেন সন্তান উৎপাদনের বিষয়টিকেও এক ধরনের ‘গ্লোবাল প্রজেক্ট’ বানিয়ে ফেলেছেন। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, তাঁর মতো বুদ্ধিমান মানুষের জিন যদি পৃথিবীতে ছড়িয়ে না পড়ে, তা হলে মানব সভ্যতার আইকিউ (IQ) কমে যাবে। এই ভাবনা থেকেই তিনি হয়ে উঠেছেন এক কট্টর ‘প্রো-ন্যাটালিস্ট’—যাঁরা মনে করেন পৃথিবীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি করা তাঁদের সামাজিক দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালনের সবচেয়ে শর্টকাট উপায় হলো স্পার্ম ডোনেশন।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ইলন মাস্ক কিন্তু লুকিয়ে এই কাজ করতে চান না। তিনি চান, তাঁর পরিচয় প্রকাশ পাক। কিন্তু এখানেই খটকা। ভারত-সহ পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই নিয়ম অনুযায়ী, শুক্রাণুদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়। যে নারী গর্ভে শুক্রাণু ধারণ করছেন, তিনিও জানতে পারেন না আসল বাবা কে।
মাস্কের এই ইচ্ছে পূরণ হতে পারে শুধু এমন কিছু দেশে, যেখানে আইন কিছুটা শিথিল। যেমন ব্রিটেন, জার্মানি, ডেনমার্ক কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো কিছু জায়গায়। সেখানে সন্তান বড় হয়ে চাইলে তার বায়োলজিক্যাল বাবার পরিচয় জানতে পারে। ফলে মাস্ক যদি সত্যিই তাঁর জিন দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান, তবে তাঁকে এই নির্দিষ্ট দেশগুলোর স্পার্ম ব্যাঙ্কের দরজায় কড়া নাড়তে হবে।
ইলন মাস্কের এই ‘স্পার্ম মিশন’ শুনতে যতটা সহজ, বাস্তবে কিন্তু ততটা নয়। এর পিছনে রয়েছে কিছু মারাত্মক সামাজিক ও চিকিৎসা বিজ্ঞানগত ঝুঁকি:
• অজান্তেই Inbreeding-এর ভয়:
যদি একটি নির্দিষ্ট এলাকায় মাস্কের শুক্রাণু থেকে অনেক সন্তান জন্ম নেয়, তবে ভবিষ্যতে বড় হয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের ঝুঁকি তৈরি হয়। একে বলে ইনব্রিডিং, যা বাচ্চার স্বাস্থ্যের জন্য খুব বিপজ্জনক। এই কারণেই আইনত একজন পুরুষ কতবার স্পার্ম দিতে পারবেন, তার সীমা বেঁধে দেওয়া থাকে।
• সম্পত্তির ভাগাভাগি:
বিষয়টিকে আরও উস্কে দিয়েছেন টেলিগ্রাম অ্যাপের মালিক পাভেল দুরভ (Pavel Durov) । তিনি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, তাঁর স্পার্ম থেকে জন্মানো ১০০ জন সন্তানকে তিনি নিজের সম্পত্তির সমান ভাগ দেবেন। মাস্কও যদি এই পথ ধরেন, তবে ভবিষ্যতের পারিবারিক আইনি লড়াই কোন পর্যায়ে পৌঁছবে, তা ভাবাই যায় না।
মাস্কের এই পুরো মিশনের মূল ভিত্তি হলো, ‘আমার মাথা খাটিয়ে আমি কোটি কোটি ডলার কামিয়েছি, তাই আমার সন্তানরাও সুপার-স্মার্ট হবে।’ কিন্তু বিজ্ঞান এই যুক্তিকে সপাটে খারিজ করে দিচ্ছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, সন্তানের বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ (IQ) মূলত নির্ধারিত হয় মায়ের জিনের উপর ভিত্তি করে, বাবার নয়। বিজ্ঞানীদের মতে, মস্তিষ্কের যে অংশটি আমাদের চিন্তাভাবনা বা কগনিটিভ স্কিল নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে বাবার জিনের ভূমিকা খুবই সামান্য। বাবার জিন বেশি কাজ করে মানুষের আবেগ, ক্ষিদে বা আগ্রাসনের মতো আদিম প্রবৃত্তিগুলোর উপর।
সহজ কথায়, একজন বাবা নোবেলজয়ী বা ট্রিলিয়নিয়ার হলেই তাঁর সন্তান জিনগত ভাবে জিনিয়াস হবে, এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। ইলন মাস্ক হয়তো মহাকাশে রকেট পাঠাতে পারেন, কিন্তু মানবদেহের ভিতরের বিজ্ঞানকে নিজের ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তাঁর ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যাঙ্কেরও নেই, এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞদের।