পাঁচিল দিয়ে ঘেরা সবুজ রঙের দোতলা বাড়ি। বাড়ির মাথায় লেখা রয়েছে ‘জাগোবিশ্ব’। গাছ-গাছালি দিয়ে ঘেরা সামনের অংশটি। গেটের উপর লেখা রয়েছে বাড়ির মালিক ও তাঁর স্ত্রী নাম। উত্তীয় কুণ্ডু ও শিউলি কুণ্ডু। প্রাথমিক ভাবে এটি ‘জাগোবিশ্ব’ নামে একটি সংবাদপত্রের অফিস। তবে এই ঠিকানাই বর্তমান জাতীয় রাজনীতির চর্চায়। কারণ এই ঠিকানাতেই (জাগো বিশ্ব, হোল্ডিং নম্বর- ৪৭১৯, গ্রাম- হাতগাছা, পোস্ট অফিস- বাণীপুর, থানা- সাঁকরাইল, জেলা-হাওড়া, পিন- ৭১১৩০৪) রেজিস্টার্ড হয়েছে ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা NCPI-এর। সেই দলেই নাম লেখাতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ। লোকসভা আসনের নিরিখে NDA-র সঙ্গে জোট হলে বিজেপির পরে সবচেয়ে বড় শরিক এই NCPI পার্টি।
বকুলতলা বি গার্ডেন গেট থেকে নাজিরগঞ্জ হয়ে হাটগাছা এনসি পাল পোল পেরিয়ে হাটগাছা-বনিপুর এলাকায় রয়েছে এই বাড়ি। স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২২-২৩ সালে ওই এলাকায় জমি কিনে এই বাড়িটি তৈরি করা হয়। বর্তমানে যে ভবনটিকে এনসিপিআই-এর কার্যালয় হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেখানে আগে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও) পরিচালিত হতো। পরে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে ওই সংগঠন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে এবং এনসিপিআই-এর ব্যানারে প্রার্থীও দাঁড় করায়।
এনজিও চালানো ও এনসিপিআই পার্টির পাশাপাশি ‘জাগোবিশ্ব’ নামে সংবাদপত্রের সম্পাদক হিসেবে নাম লেখা রয়েছে উত্তীয় কুণ্ডুর। অন্য দিকে, শিউলি কুণ্ডু কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী। এই সময়ের প্রশ্নের উত্তরে শিউলি জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে NCPI পার্টির সঙ্গে যুক্ত নয়।
বিদ্রোহী সাংসদের দলে যোগদানের জল্পনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সাংসদের দলে যোগদান নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবুও এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক তৎপরতা জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
শিউলী কুণ্ডুর বড় মেয়ে দীপান্বিতা কুণ্ডু জানান, ২০২২ সাল থেকে NCPI দলের অফিস চালু হয়েছে। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে NCPI দলের হয়ে ঝোড়হাট গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর বেশি কিছু তিনি এখনও বলতে রাজি হননি।