মমতার বাড়ির সামনে কুণালকে লক্ষ্য করে ডিম 'হামলা' ! 'জনরোষ' না 'পরিকল্পিত চক্রান্ত'?
eTV Bharat | ১৫ জুন ২০২৬
কলকাতা, 15 জুন: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অসন্তোষের যে ছবি মাঝেমধ্যেই সামনে আসছে, সোমবার তারই এক নাটকীয় প্রতিফলন দেখা গেল কালীঘাটে। খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বর্তমান শাসকদল যেমন 'জনরোষে'র প্রসঙ্গ তুলে সরব, তেমনই তৃণমূলের দাবি, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত উসকানি।
সোমবার সন্ধেয় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে বাইরে বেরিয়ে আসেন কুণাল ঘোষ। বাড়ির সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তেই আচমকা দু'টি যুবক সেখানে এগিয়ে আসে এবং তাদের মধ্যে একজন অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে কুণালকে লক্ষ্য করে একটি ডিম ছুড়ে মারে। তৃণমূল বিধায়ক নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও সরাসরি তাঁর মাথায় এসে লাগে সেই ডিম।
পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেকে 'চন্দন' বলে পরিচয় দেওয়া ওই যুবক দাবি করে, তিনি কালীঘাট এলাকারই বাসিন্দা। তাঁর কথায়, তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে রয়েছে। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই প্রতিবাদ। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, "মানুষ সব দেখেছে। কুণাল ঘোষ কি কম অত্যাচার করেছেন? এঁরা পচা ডিম খাওয়ারই যোগ্য।"
এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কি সত্যিই এতটাই তীব্র যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনেও তার বিস্ফোরণ ঘটছে? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য?
কুণাল ঘোষ অবশ্য দ্বিতীয় তত্ত্বেই আস্থা রাখছেন। তাঁর দাবি, এটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পনা করেই হামলা চালানো হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সেই সুযোগে পিছন থেকে ডিম ছুড়ে পালিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটাকে প্রতিবাদ বলা যায় না, এটা নিছক অসভ্যতা এবং পরিকল্পিত বাঁদরামি।"
তবে ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাতের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। কারণ, ঘটনাটি ঘটেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে, যে এলাকাটি উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায়। কুণালের অভিযোগ, "প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীরা এত কাছে পৌঁছে গেল কী করে? পুলিশ সব দেখেও কোনও পদক্ষেপ করল না। কাউকে আটকানো হয়নি, ধাওয়াও করা হয়নি।"
তবে এসব করে তাঁকে যে দমানো যাবে না, তা স্পষ্ট করে কুণালের পালটা হুঁশিয়ারি, "আমি আবার এই রাস্তা দিয়েই যাব। এসব করে আমাকে ভয় দেখানো যাবে না।" পরে এলাকা ছাড়ার সময় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তাঁর ব্যঙ্গ, "বাকিগুলো অমলেট করে খেয়ে নিন।"
'এক মাঘে শীত যাবে না' জানিয়ে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অত্যাচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে কুণাল প্রশ্ন তোলেন, "কে অত্যাচার করেছে? আমি করেছি? মমতাদি করেছে? করলে থানা-পুলিশ করেছে। তার দায় আমার? ওকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন ওর চাকরি কে দিয়েছে?" এরপর তিনি পায়ে হেঁটেই এলাকা ছাড়েন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতাদের ঘিরে যে বিক্ষোভ ও প্রতীকী প্রতিবাদের ঘটনা ঘটছে, কালীঘাটের এই ডিম-কাণ্ড তারই নতুন সংযোজন।