• জনকল্যাণ শিবিরের প্রথমদিনে মহিলাদের রেকর্ড উপস্থিতি, অন্নপূর্ণা যোজনা-আয়ুষ্মান ভারত-এ আগ্রহ বেশি
    eTV Bharat | ১৫ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 15 জুন: ​রাজ্যবাসীর দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা অত্যন্ত দ্রুত এবং মসৃণভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে 'জনকল্যাণ শিবির'। প্রথম দিনই এই শিবিরে বহু মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম থেকে এই শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

    নবান্ন সূত্রের খবর, মূলত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিতে মোট 54টি ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ মহলের মতে, সাধারণ মানুষের এই বিপুল ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জেরে প্রথম দিনেই কার্যত সুপারহিট এই নয়া কর্মসূচি।

    ​শিবিরের প্রথম দিনেই যে ধরনের নজিরবিহীন ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে, তা বিগত দিনের অনেক প্রশাসনিক রেকর্ডকেই ভেঙে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন বিকেল সাড়ে 5টা পর্যন্ত পাওয়া সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই 7 লক্ষ 89 হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষ এই শিবিরগুলিতে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন বা বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি গ্রহণ করেছেন।

    তবে এই কর্মসূচির সবথেকে উল্লেখযোগ্য ও চমকপ্রদ বিষয় হল শিবিরে মহিলাদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ। পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম দিনে শিবিরে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের সংখ্যা 4 লক্ষ 21 হাজার 403 জন, যা পুরুষদের উপস্থিতিকে এক লহমায় অনেকটাই ছাপিয়ে গিয়েছে। এর বিপরীতে প্রথম দিনে পুরুষদের অংশগ্রহণের সংখ্যা ছিল 3 লক্ষ 67 হাজার 174 জন। মহিলাদের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে সরকারি পরিষেবা গ্রহণে তাঁরা কতটা সচেতন এবং আগ্রহী।

    ​যদিও এই জনকল্যাণ শিবিরে মোট 54টি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, তা সত্ত্বেও প্রথম দিন সাধারণ মানুষের আগ্রহের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মূলত দু'টি বিশেষ প্রকল্প — 'অন্নপূর্ণা যোজনা' এবং 'আয়ুষ্মান ভারত'। প্রাপ্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিবিরে আসা মোট মানুষের মধ্যে 50 শতাংশেরও বেশি মানুষ শুধুমাত্র এই দুই প্রকল্পের সুবিধা পেতেই বিভিন্ন কাউন্টারে ভিড় জমিয়েছিলেন।

    স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের 'আয়ুষ্মান ভারত' এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে 'অন্নপূর্ণা যোজনা' — এই দুই প্রকল্পের কাউন্টারগুলিতে সকাল থেকেই ছিল চোখে পড়ার মতো দীর্ঘ লাইন। এই বিপুল সাফল্য ও মানুষের উন্মাদনা প্রসঙ্গে প্রশাসনিক মহলের এক পদস্থ আধিকারিক সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে গ্রামীণ মহিলাদের এই বিপুল এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। কেন্দ্র এবং রাজ্যের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে এক ছাতার তলায় আনার এই উদ্যোগ যে কতটা সফল ও সময়োপযোগী, আজকের এই পরিসংখ্যানই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।"

    ​রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে, এমনকি প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতেও সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছানোর জন্য প্রথম দিনে মোট 1025টি জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। জেলাভিত্তিক আয়োজনের পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখলে দেখা যায়, শিবির আয়োজনের নিরিখে রাজ্যজুড়ে সবথেকে এগিয়ে রয়েছে উত্তর 24 পরগনা জেলা। এই জেলায় সর্বাধিক 129টি শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ 24 পরগনা, যেখানে আয়োজিত শিবিরের সংখ্যা 75। এছাড়া হুগলি জেলায় 73টি এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় 68টি শিবির অত্যন্ত সুচারুভাবে আয়োজিত হয়েছে প্রথম দিনে। এই বিস্তীর্ণ পরিকাঠামো ও সুষ্ঠু আয়োজনের ফলে রাজ্যের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা মানুষও অত্যন্ত সহজে সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলি গ্রহণ করতে পেরেছেন।

    ​নন্দীগ্রামের পুণ্যভূমি থেকে এই মেগা শিবিরের সফল উদ্বোধনের পর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আগামী কয়েকদিনের সফরসূচিও অত্যন্ত ব্যস্ততাপূর্ণ হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, জনকল্যাণ শিবিরের কাজ কেমন চলছে এবং সাধারণ মানুষ সঠিক পরিষেবা পাচ্ছেন কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে তিনি আগামিকাল পাহাড়ে অর্থাৎ কার্শিয়াং সফরে যাচ্ছেন। পাহাড়ের মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বিচারের পর তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হতে চলেছে দক্ষিণ 24 পরগনার ফলতা, সেখানে তিনি এর পরের দিন পরিদর্শনে যাবেন।

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই 'জনকল্যাণ শিবির'-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দুয়ারে প্রশাসনের সরাসরি পৌঁছে যাওয়ার যে নিরন্তর প্রয়াস শুরু হলো, তা প্রথম দিনের অবিশ্বাস্য সাফল্যের নিরিখে আগামিদিনে রাজ্যে এক নতুন প্রশাসনিক মাইলফলক স্থাপন করতে চলেছে।
  • Link to this news (eTV Bharat)