নেই কোনও নাম, না চিহ্ন, অদ্ভুত স্টেশন আছে বাংলাতেই!
আজকাল | ১৬ জুন ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ট্রেনে চড়লে অবশ্যই প্রতিটি স্টেশনে থাকা বিখ্যাত হলুদ বোর্ডটি দেখেছেন, যেখানে স্টেশনের নাম এবং কোড লেখা থাকে। এই হলুদ বোর্ডটি স্টেশনের পরিচয় হিসেবে কাজ করে, যাত্রীরা কোথায় পৌঁছেছেন তা নির্দেশ করে। কিন্তু আপনি কি জানেন, ভারতে এমন একটি রেলওয়ে স্টেশন আছে যার কোনও নাম নেই? হ্যাঁ, প্ল্যাটফর্মের হলুদ বোর্ডটি সম্পূর্ণ ফাঁকা।
একজন যাত্রী কীভাবে জানবেন কোথায় নামতে হবে? স্টেশনের নাম ছাড়া টিকিট কীভাবে বুক করা হবে? ভারতে এমন একটি নামহীন স্টেশন আছে যেখানে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই আপনার বিস্ময় জাগবে। একটি অদ্ভুত কারণে কেবল একটি রেল স্টেশনের কোনও নাম নেই।
স্টেশনটির হলুদ বোর্ডে কোনও নাম লেখা নেই, কোনও পরিচয় নেই, তবুও প্রতিদিন সেখানে ট্রেন থামে। যাত্রীরা টিকিট কাটেন, ট্রেনে চড়েন। এই নামহীন রেল স্টেশনটি অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। নামহীন হওয়া সত্ত্বেও স্টেশনটিতে প্রতিদিন কয়েক ডজন ট্রেন দাঁড়ায়।
জানা গিয়েছে, স্টেশনটি যেখানে রয়েছে সেটির দুই প্রান্তে দু’টি গ্রাম রয়েছে। উভয় প্রান্তের গ্রামবাসীদের দাবি ছিল স্টেশনটি তাঁদের গ্রামের নামে হোক। এই নিয়ে দুই গ্রামের দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। বিরোধ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। রায়ের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে রেল বোর্ড থেকে নাম সরিয়ে দেয়। তারপর থেকে, এই স্টেশনটি নামহীনই রয়ে গিয়েছে।
শুধু নামহীন বলে নয়, স্টেশনটি রবিবার বন্ধও থাকে। ভারতে এই নামহীন স্টেশন ছাড়া আর কোনও রেলওয়ে স্টেশন রবিবার বন্ধ থাকে না। ভারতের বেশিরভাগ স্টেশন প্রতিদিন খোলা থাকলেও, এই নামহীন স্টেশনটি রবিবার বন্ধ থাকে। কারণ, রবিবার স্টেশন মাস্টারকে টিকিটের রেকর্ড জমা দেওয়ার জন্য বর্ধমানে যেতে হয়। তাই সেদিন স্টেশনে কোনও ট্রেন পরিষেবা দেওয়া হয় না। নিয়মিত দিনে ছ’টি ট্রেন যাতায়াত করে। তবে কেবল বাঁকুড়া-মসাগ্রাম প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি থামে এবং তাও দিনে ছ’বার। মজার বিষয় হল, এই স্টেশনে বিক্রি হওয়া ট্রেনের টিকিটের নাম ‘রায়নগর’। এই নামেই টিকিট বুকিং করা হয়।