• বিক্ষুব্ধ MLA'রাও মিশছেন NCPI-তে? সন্দীপন বলছেন...
    আজকাল | ১৬ জুন ২০২৬
  • রিয়া পাত্র

     ৫৮ বিধায়কের সই নিয়ে, তৃণমূল থেকে আলাদা হয়ে, পৃথক ব্লক তৈরি করেছিলেন ঋতব্রত ব্যানার্জি, সন্দীপন সাহা। তার আগের ঘটনাবলী উল্লেখ্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় জাল হয়েছে সই, এই অভিযোগ বিধানসভায় করেন ঋতব্রত-সন্দীপন। শুভেন্দু অধিকারী তথ্য সমানে আনতেই, দল দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে। তারপরেই অন্য ব্লক তৈরি করেন তাঁরা। তাতে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জি ঘনিষ্ঠ একাধিক বিধায়ক। সোমে জানা গেল, সমর্থন বেড়েছে আরও। 'ঋতব্রতর তৃণমূল'-এ এখন সমর্থন ৬৫ বিধায়কের। এই পরিস্থিতিতে জল্পনা, এই বিদ্রোহী ব্লক কি পৃথক থাকবে বিধানসভায়? নাকি বিক্ষুব্ধ সাংসদদের মতো, মিশে যাবে অন্য কোনও দলে?

    এই প্রসঙ্গে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহার সঙ্গে। তাঁর সাফ বক্তব্য, 'সাংসদরা, সংসদে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের সিদ্ধান্ত আর আমাদের সিদ্ধান্ত এক নয়। আমরা আমরা তৃণমূলের মধ্যে থেকেই দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন নিয়ে পৃথক ব্লক তৈরি করেছি। বিধানসভায় পরিষদীয় দল তো আমরা তৃণমূল কংগ্রেসেরই। আমাদের এই মুহূর্তে এই ধরনের কোনও পরিকল্পনা নেই। কোনও দলে মিশে যাওয়ার কোনও ভাবনাই ভাবছি না আমরা।'

    আগামী দিনে কি সাংসদদের মতো, অন্য দলে মিশে যাওয়ার ছবি দেখা যেতে পারে? সন্দীপন বলছেন, 'এখনই কোনও সম্ভাবনাই নেই, আগামীর কথা এখন কী করে বলি...'

    এনসিপিআই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, জল্পনা ছিল, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা, যোগ দেবেন বিজেপিতে। কিংবা তৃণমূলের পৃথক ব্লক হয়ে থেকে, সমর্থন করবে এনডিএ-কে। কিন্তু রবিবার রাতে জানা যায়, পৃথক ব্লক নয়, একেবারে পৃথক দলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন কুড়ি সাংসদ। যোগ দিচ্ছেন, বছর কয়েকের পুরোনো দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা NCPI-এ। 

    দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠকের পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু কারা এই NCPI? জানা গিয়েছে, ত্রিপুরাতেই জন্ম হয়েছে এই ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার(NCPI)। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে এই দলটি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছিল। তবে বর্তমানে ত্রিপুরা সহ অসম, বাংলা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় সংগঠন রয়েছে এই পার্টির। 

    দেব, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, পার্থ ভৌমিকের বড় নাম এবার এই দলটির সঙ্গে জুড়ে যাওয়ায় বাংলায় NCPI-এর সংগঠন যে আরও শক্তিশালী হবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।  এদিন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উদ্দেশ্যে একটি চিঠিও তৈরি করা হয়েছে। সেখানে এই বিক্ষুব্ধ শিবিরটি নিজেদের NCPI-এর সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানায়। তারপর থেকেই নজর, বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের সিদ্ধান্তের দিকে। 

     
  • Link to this news (আজকাল)