ওষুধ না খেলে 'এই' রোগে নষ্ট হতে পারে হাত-পা, সুস্থ রাখতে ঘরের দরজায় কড়া নাড়বেন স্বাস্থ্যকর্মীরা
News18 বাংলা | ১৬ জুন ২০২৬
ফাইলেরিয়া রোগ মুক্ত করতে রাজ্য সরকারের নয়া উদ্যোগ। সচেতনতায় ‘গণ ওষুধ গ্রহণ কর্মসূচির সূচনায় আনুষ্ঠানিক ভাবে রোগ প্রতিরোধের বার্তা স্বাস্থ্য বিভাগের। ফাইলেরিয়া মারণ রোগ না হলেও এই রোগ একটি কর্মঠ মানুষের হাত-পা এর মত বিভিন্ন অঙ্গ বিকল করে বন্দি জীবনে পরিণত করে। মানুষকে ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। মশা বাহিত এই রোগ নিঃশব্দে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। শরীরে প্রবেশের পর ভিতর থেকে ক্ষতিকর প্রভাব তৈরি করে। ক্ষতির প্রভাবে পা-হাত ফুলে বিশাল আকার ধারণ করে। যে কারণে একে গোদ বা হাতিপা নামে ডাকা হয়।
বাইরে থেকে ফোলা ভাব দেখা যাওয়া মানে এই রোগের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। চিকিৎসা করেও ফাইলেরিয়া রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। রোগ আক্রান্ত হওয়ার আগে সতর্ক থাকতে হবে মানুষকে। তাই মানুষের জীবন সুরক্ষিত রাখতে এবং সম্পূর্ণ রূপে ফাইলেরিয়া নির্মূল করতে সরকারি ভাবে বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান কর্মসূচি। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশ মত গ্রাম ও শহর প্রতিটি বাড়িতে স্বাস্থ্যকর্মীরা পৌঁছে এই ওষুধ খাওয়াবেন।
আগামী ১৫ দিনে সমস্ত জেলার মানুষকে ওষুধ সেবনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে সূচনা হয় গণ ঔষধ সেবন কর্মসূচি। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডাঃ শারদ্বথ মুখোপাধ্যায় , প্রতি মন্ত্রী উমেশ রাই ও সুমন সরকার, জেলা শাসক ডঃ পি দ্বীপপ প্রিয়া, বিধায়ক সঞ্জয় সিং, অমিত সামন্ত, চিরন বেরা এবং চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মীরা। এপ্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী শারদ্বথ মুখোপাধ্যায় জানান, ফাইলেরিয়া নিরাময়ে ‘গণ ঔষধ সেবন ‘ দু’টি বড়ি বছরে একবার। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী ২ বছরের নিচে এবং গর্ভবতী মহিলা ছাড়া সকলে সেবন করবেন।
আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়িতে পৌঁছে ওষুধ খাওয়াবেন। নির্দেশিকা অনুযায়ী দু’টি ওষুধ স্বাস্থ্য কর্মীর সামনেই সেবন করতে হবে। সেবনের পর বাম হাতের অনামিকা বা রিং ফিঙ্গারে কালী চিহ্নিতকরণ বা সনাক্তকরণ করা হবে। এই রোগ পশ্চিমবঙ্গে গোদ নামে পরিচিত, হিন্দি ভাষীদের কাছে হাতিপাও। এই রোগ আক্রান্ত হলে এর কোনও চিকিৎসা নেই। তাই আগেই সতর্কতা অবলম্বন খুব জরুরি। তাই রাজ্য ও কেন্দ্র দুই সরকার বিনামূল্যে ব্যবস্থা করেছেন। এই কর্মসূচি পশ্চিমবঙ্গে ১০ টি জেলায় শুরু হয়েছে।