'বিচিত্র পরচুলোর সঙ্গে ভ্রাম্যমান বিউটি পার্লার ফ্রি'। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি যাওয়া এবং বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে NCPI দলে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করার পর এমন ভাবেই তাঁকে কটাক্ষ করেছিলেন কুণাল ঘোষ। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর নিশানায় ছিলেন। দলের এই শোচনীয় ফলাফলের সময়েও নয়না চৌরঙ্গী বিধানসভা থেকে জয়ী হয়েছেন। এক এক করে যখন অনেকেই দলবিরোধী হয়েছেন তখন নয়নাকে দেখা গিয়েছে মমতার পাশেই। তবে স্বামী সুদীপ বিদ্রোহী হওয়ায় তিনিও চলে যাবেন বলেই অনুমান করেছিলেন কুণাল। তবে এর তীব্র বিরোধিতা করে নয়না ফুঁসে ওঠেন। অভিযোগও জানাবেন বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। এরপরই তাঁকে 'প্রিয় বৌদি' বলে সম্বোধন করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সোমবার কুণাল ঘোষ বলেন, 'নয়াদি আমার ভীষণ প্রিয় বৌদি। হাতে হাত রেখে আমি আর নয়না বৌদি শপথ নিয়েছিলাম, দিদির সঙ্গ ছাড়ব না। এখন দেখার আমার বৌদি মমতাদির হাত ধরে থাকেন কি না। কারণ ওঁর স্বামী, আমার জামাইবাবু তো চলে গেলেন। উনি তো দলবদলের স্পেশালিস্ট। এবার বৌদি কী করবেন, সেটা জেলা সভাপতি হিসেবে আমায় জানতে হবে।'
উল্লেখ্য, জল্পনার মাঝেই এদিন তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ছেন না বলে জানিয়েছেন চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, 'আমি দৃঢ়ভাবে দিদির সঙ্গেই আছি। তিনি আমাকে ছেড়ে যেতে পারেন, কিন্তু আমি তাঁকে ছেড়ে যাব না। যাঁকে আমি আমার দুর্গা বলে ডেকেছি, তাঁকে কীভাবে ছেড়ে যেতে পারি? দিদি আমাকে ছেড়ে যেতে পারেন, কিন্তু আমি কোনওদিন তাঁর পাশ ছেড়ে যাব না।'
এ প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, 'উনি স্বামীর সঙ্গে ওখানে যাবেন না দলে থাকবেন, সেটা ঠিক করুন। দিদির হাত ধরবেন তো কি স্বামীর হাত ছেড়ে দেবেন? একজনের রাজনৈতিক হাত তো ছাড়তে হবে। যদি দিদির সঙ্গে আছেন তাহলে আপনার স্বামী যে দিদির সঙ্গে গদ্দারি করলেন, প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করুন।'