জলঙ্গির সীমান্তে জমি-জট কাটাতে শুরু তৎপরতা, ফেন্সিং দিতে কৃষক-বিএসএফ বৈঠক
প্রতিদিন | ১৬ জুন ২০২৬
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া থানার চর-কাকমারী এলাকায় জমি নিয়ে জট জারি। কৃষকদের আপত্তির জেরে চর-কাকমারী বিএসএফ ক্যাম্পে প্রশাসন, বিএসএফ ও কৃষক প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই বৈঠকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি বলে জানা গিয়েছে। জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলি জানান, “কৃষকদের আপত্তিকে গুরুত্ব দিয়ে যতটা সম্ভব নো-ম্যানস ল্যান্ডের কাছাকাছি ফেন্সিং করার বিষয়ে প্রাথমিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। আগামী ১৭ জুন ফের বৈঠকে বসে ফেন্সিংয়ের নির্দিষ্ট স্থান চূড়ান্ত করা হবে।”
জানা গিয়েছে, রানিনগর ও জলঙ্গি ব্লকের বিভিন্ন সীমান্ত (Jalangi Border) এলাকায় ইতিমধ্যেই ফেন্সিংয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। রানিনগরের সরন্দাজপুর, দক্ষিণ মাঝারদিয়াড়, চর কাতলামারী ও চর নবীপুর ডিহি মৌজায় প্রায় ৯১ একর জমির প্রয়োজন হয়েছে। তার মধ্যে ৬৯ একর জমির মালিক জমি দিতে সম্মত হয়েছেন এবং ৫০ একরেরও বেশি জমি রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু চর-কাকমারী থেকে বামনাবাদ পর্যন্ত এলাকায় সীমান্ত থেকে অনেকটা ভিতর দিয়ে ফেন্সিংয়ের পরিকল্পনার অভিযোগ তুলে কৃষকেরা আপত্তি জানান।
গত ১০ জুন তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভও করেন সাহেবনগরে। এরপরই প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়। বিধায়ক বাবর আলি বলেন, “দেশের সুরক্ষার স্বার্থে কৃষকেরা জমি দিতে রাজি। তবে তাঁদের দাবি, কাঁটাতারের বেড়া যেন নো-ম্যানস ল্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ করা হয়, যাতে কৃষিজমি সুরক্ষিত থাকে।” জানা গিয়েছে, শনিবার জমি জটের বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের ৭৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার দীনেশ কুমার, জলঙ্গির বিডিও জয় আহমেদ, সাগরপাড়া থানার ওসি রাকেশ কুমার বিশ্বাস-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক এবং কৃষক প্রতিনিধিরা।