ফরাক্কায় হেরোইন ল্যাব! ৪ মহিলা-সহ ৭ গ্রেপ্তার, পলাতক বিহারের মূল পাণ্ডা
প্রতিদিন | ১৬ জুন ২০২৬
এবার বাংলাতেই হেরোইন ল্যাবের হদিশ পেল পুলিশ। মূলত আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, মণিপুর থেকে বাংলা-সহ দেশেরে বিভিন্ন এলাকায় হেরোইন পাচার করা হত। কিন্তু বর্তমানে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তাজড়িত কড়াকড়ি বেড়েছে। সেই কারণে বাংলায় মাদক পাচার করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে হেরোইন কারবারিদের। তাই এবার সরঞ্জাম জোগাড় করে বাংলার বুকেই হেরোইন তৈরির ল্যাব তৈরি করে ফেলল পাচারকারীরা। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় (Farakka) বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই ল্যাব চলছিল। এই ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল চক্রী ইসমাইল শেখ পলাতক রয়েছেন। বিপুল পরিমাণ হেরোইন নিয়ে তিনি চম্পট দেন বলে অভিযোগ।
সাত মাস আগে বিহারের বাসিন্দা ইসলাইল মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় এসে দু’টি ঘর ভাড়া নেন। তারপর সেখানেই একটি হেরোইন ল্যাব তৈরি করেন । সেই ল্যাবে হেরোইন তৈরি ও প্যাকেটজাত করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। বিহার-ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ফরাক্কাকে বেছে নেন ইসমাইল। সোমবার দুপুরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ফরাক্কা থানার পুলিশ নিউ ফরাক্কায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে লোহাপট্টির এই ল্যাবে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় ৭ কারবারিকে। ধৃতদের মধ্যে ৪ জন মহিলা। অভিযানে ৩০০ গ্রাম হেরোইন, কয়েক লক্ষ টাকা নগদ ও হেরোইন তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে পুলিশ আসার আগেই বিপুল পরিমাণ হেরোইন নিয়ে পালিয়ে যান এই কারবারের মূল পাণ্ডা ইসমাইল শেখ। তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হলেন বিহারের সমস্তিপুরের রহিত সিং, মালদহের কালিয়াচক থানার মোজামপুরের ইশা হক ও মহম্মদ আসলাম। সম্পর্কে তাঁরা কাকাতো ভাই। ধৃত চার মহিলা হলেন রাজিয়া খাতুন, জেহিনা খাতুন, সাকিনা খাতুন ও মাদিনা খাতুন। তাঁরা বিহারের যোগবানির বাসিন্দা। ফরাক্কা থানার এক আধিকারিক জানান, বিহার-ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ফরাক্কাকে মাদক কারবারের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ধৃতদের জেরা করে চক্রের বাকিদের ধরতে তদন্ত চলছে। ধৃত ৭ জনকে মঙ্গলবার দুপুরে জঙ্গিপুর আদালতে তোলা হবে। তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানাবে ফরাক্কা থানার পুলিশ।