সই জাল কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পাশের তৃণমূলের পার্টি অফিসে সিআইডি তল্লাশি চলেছিল। সেই ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু কলকাতা হাই কোর্ট ওই মামলা শুনলই না। সরলেন খোদ বিচারপতি। ফলে মামলা এই মুহূর্তে প্রধান বিচারপতির কাছে চলে গেল বলে খবর। কিন্তু কী কারণ, দেখালেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য?
তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল কাণ্ড নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। দলের মধ্যেও বিদ্রোহী হন বিধায়করা। ভাঙন শুধু নয়, তৃণমূলে মুষলপর্বও শুরু হয়। সিআইডি ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ওই ঘটনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করেছেন সিআইডির তদন্তকারীরা। শুধু তাই নয়, রেজোলিউশনের কপি কোথায় আছে, খোঁজার জন্য কালীঘাটের নেত্রীর বাড়ির পাশের তৃণমূল কার্যালয়ে হানা দিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেই ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর এজলাসে ওই মামলা ওঠার কথা ছিল। কিন্তু সেই মামলা শুনলই না আদালত। মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি।
এক্ষেত্রে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে ওই সই জাল কাণ্ডেই অন্য কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে সেই মামলার শুনানিও হয়। সাময়িক রক্ষাকবচ পেয়েছেন অভিষেক। সেক্ষেত্রে আলাদা করে এই মামলার শুনানি দুই বেঞ্চে হলে, নির্দেশ ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেজন্যই এই মামলা থেকে বিচারপতি অব্যাহতি নিলেন। সেক্ষেত্রে মামলার শুনানি বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসেই হওয়া উচিত। এমনই পর্যবেক্ষণ বিচারপতি ভট্টাচার্যের।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, যেহেতু সই জাল কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের শুনানি হচ্ছে, তাই অন্য বেঞ্চ আর এই সই সংক্রান্ত কোনও মামলা শুনবে না। এই মামলা আপাতত প্রধান বিচারপতির এজলাসে চলে গেল। এরপর কোন এজলাসে মামলা যাবে, সেই বিষয় প্রধান বিচারপতি ঠিক করবেন।