• লিপস্টিকে লুকিয়ে মহাবিপদ, নিষিদ্ধ স্কুল চত্বরে! বেনজির পদক্ষেপ কেরালা সরকারের
    এই সময় | ১৬ জুন ২০২৬
  • বর্তমান প্রজন্মের স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে প্রসাধনী বা কসমেটিক্স ব্যবহারের প্রবণতা ক্রমে বাড়ছে। এ বার এই প্রবণতা রুখতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল কেরালার নয়া কংগ্রেস সরকার। রাজ্যজুড়ে ‘লিপস্টিক-মুক্ত ক্যাম্পাস’ (Lipstick-free campuses) গড়ার লক্ষ্যে একটি ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান শুরু করল সেই রাজ্যের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC)। কিন্তু কেন? স্কুলপড়ুয়াদের স্বাস্থ্য বিষয়ে গভীর উদ্বেগ থেকেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।

    কমিটি সূত্রে খবর, কেরালার স্বাস্থ্য দপ্তর এর আগে এই বিষয়ে একটি সতর্কবার্তা জারি করেছিল। তারা জানিয়েছিল, শুধু লিপস্টিক নয়, আইলাইনার, আইশ্যাডো, ব্লাশার এবং ফেস ক্রিমের মতো কসমেটিক্সে পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো বিপজ্জনক ভারী ধাতু থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ত্বক অনেক পাতলা ও সংবেদনশীল হওয়ায় এই রাসায়নিকগুলি দ্রুত তাদের শরীরে শোষিত হয়। এর ফলে গুরুতর অ্যালার্জি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের মতো রোগ বাসা বাঁধতে পারে। লিপস্টিকে থাকা ভারী ধাতু শিশুদের অন্ত্রের ক্যান্সারের (Bowel Cancer) ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

    এটা শুধু তত্ত্বকথা নয়, বাস্তবেও এই বিপদ ধরা পড়েছে। তিরুবনন্তপুরমের ‘রিজিওনাল ক্যানসার সেন্টার’ (RCC)-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কেরালার কোল্লাম, এর্নাকুলাম এবং কোঝিকোড় জেলায় শিশুদের মধ্যে অন্ত্রের ক্যান্সারের প্রকোপ ব্যাপক ভাবে বেড়েছে। শিক্ষকদের একাংশ জানিয়েছেন, টিফিনের বিরতিতে অনেক শিক্ষার্থীকেই স্কুল চত্বরে এই সকল কসমেটিক্স ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। এর পরেই শুরু হয়েছে এই অভিযান।

    কেরলের কোল্লাম জেলার মায়্যানাড় হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে সে রাজ্যের প্রখ্যাত কবি কুরিপুঝা শ্রীকুমার আনুষ্ঠানিক ভাবে এই প্রচার অভিযানের সূচনা করেন। যে সমস্ত স্কুল সফল ভাবে এই সচেতনতা শিবিরের কর্মসূচি সম্পন্ন করবে, তাদের ‘লিপস্টিক-মুক্ত ক্যাম্পাস’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

    এর পাশাপাশি, স্কুল ক্যাম্পাসের আশেপাশের দোকানগুলি থেকে ক্ষতিকারক ভারী ধাতুযুক্ত কসমেটিক্সও বাজেয়াপ্ত করা হবে। এই কাজ অবশ্য গত বছর থেকেই শুরু করে দিয়েছিল রাজ্য ড্রাগস কন্ট্রোল বিভাগ। কোল্লাম জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সম্পাদক, ডি শাইন দেব জানিয়েছেন, রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন ইতিমধ্যেই এই দোকানগুলিতে নজরদারি চালানোর সুপারিশ করেছে।

    সমাজতাত্ত্বিকদের একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরণের পরে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতি একটা মোহ তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের মতো ‘খুঁতহীন’ হতে চাইছে তারা। তার উপরে রয়েছে বিজ্ঞাপনী হাতছানি। তাতে এই ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের প্রবণতার শিকড় আরও গভীরে প্রবেশ করেছে। আর তার পিছনেই লুকিয়ে রয়েছে ক্যান্সারের মতো বিপদ। তাই কেরালা সরকারের এই ‘লিপস্টিক-মুক্ত ক্যাম্পাস’ অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে দেশের অন্যান্য রাজ্যের স্কুলগুলিও এই এই কেরালা মডেল অনুসরণ করে কিনা, সেটাই এখন দেখার।

  • Link to this news (এই সময়)