রবিবারের পর সোমবার। ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। CID-র সাড়ে ৮ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পরে কেন্দ্রীয় এজেন্সির ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তহবিল তছরুপের (PMLA) তদন্তে এ দিন তাঁকে প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
ED-র সমনে সাড়া দিয়ে এ দিন সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ সল্টলেকের CGO কমপ্লেক্সে হাজির হয়েছিলেন অভিষেক। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, তাঁদের কাছে এই নিয়োগ দুর্নীতির ‘মানি ট্রেইল’ বা টাকার লেনদেন সংক্রান্ত প্রায় দুই ডজন প্রশ্নের একটি তালিকা ছিল। মূলত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করেন ED-র আধিকারিকরা। রাত ১০টা নাগাদ অবশেষে CGO কমপ্লেক্স থেকে বের হন অভিষেক।
CGO কমপ্লেক্স থেকে বের হওয়ার মুখে অভিষেক বলেন, ‘সামর্থ্য অনুযায়ী আমি সাহায্য করেছি। তারা যা প্রশ্ন করেছে, উত্তর দিয়েছি। তারা তাদের কাজ করছে। রাজনৈতিক চাপ আছে। তবে BJP নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো। এক দিকে দদল ভাঙানোর খেলা, আর এক দিকে বিরোধী শক্তি যারা লড়াই করছে, তাদের কী করে দমানো যায়, কার্যত বিরোধী শূন্য করে দেওয়া যায় পশ্চিমবঙ্গকে। গত একমাস ধরে সেই চেষ্টা চলছে।’
তিনি দাবি করেন, BJP ভেবেছিল এজেন্সির ভয় দেখালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যারা আছে, তারাও ভয় পেয়ে যাবে, মাথা নত করবে। অভিষেক বলেন, 'আমাদের গলা কেটে নিলেও আত্মসমর্পণ করব না।'
রবিবারই বিধানসভায় সই জালিয়াতি মামলায় রাজ্য পুলিশের CID-র মুখোমুখি হয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এ দিন ED। তবে এখানেই শেষ নয়, আগামীকাল অর্থাৎ, মঙ্গলবার (১৬ জুন) ফের তাঁকে ভবানী ভবনে সিআইডি CID-র সদর দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন উস্কানিমূলক মন্তব্য ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, সেই প্রেক্ষিতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গত ১২ জুন এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সমন পাঠিয়েছিল CID।