বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে শেখ শাহ আলম (৭১) নামে এক তৃণমূল সমর্থককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। আরামবাগ মেডিক্যালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। সোমবার হুগলির পুরশুড়ার কেলেপাড়ার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে সরব হয়েছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে মৃতের পরিবারের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখ শাহ আলম তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন না। তবে দীর্ঘদিন ধরেই দলকে সমর্থন করতেন তিনি। অভিযোগ, এ দিন বিকেলে তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। তাঁকে বেরিয়ে আসার জন্য ডাকাডাকি করতে থাকেন তাঁরা। সেই সময়ে বাড়িতেই ছিলেন শাহ আলম। হাঁকডাক শুনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।
অভিযোগ, শাহ আলম বেরোতেই তাঁকে ঘিরে ফেলেন বিজেপি কর্মীরা। শুরু হয় মার। বাঁশ, ইট, লোহার রড দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁকে বাঁচাতে ছুটে যান আলমের স্ত্রী এবং বৌমা। কিন্তু তাঁরাও রেহাই পাননি। অভিযোগ, তাঁদেরও বেধড়ক মারধর করা হয়। মারের চোটে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন শাহ আলম। তাঁকে কোনও রকমে উদ্ধার করে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
এর পরেই অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে সরব হন মৃতের বৌমা রেশমা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুরমশাই কোনও দিন পার্টি করেননি। কোনও সুযোগ সুবিধাও নেননি। তাঁকে তৃণমূল কর্মীও বলা যায় না। তবুও বিজেপির গুন্ডারা তাঁকে পিটিয়ে খুন করল। আমরা অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি চাই।’ একই কথা বলছেন মৃতের ছেলে শেখ রফিকুল ইসলাম। তিনি প্রশ্ন, ‘আমরা পার্টি করি না। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। তবু কেন আমাদের সঙ্গে এমনটা ঘটল?’
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মৃতের পরিবারের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ। তিনি বলেন, ‘বিজেপি সুশাসনে বিশ্বাস করে। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। তবে বিজেপি কর্মীজের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগের সত্যতা মেলে, তা হলে আইন আইনের পথে চলবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।’ মৃতের পরিবার এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানা গিয়েছে। তবে সুয়োমোটে মামলা দায়ের করে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুরশুড়া থানার পুলিশ। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।