শুভেন্দুর ডাকে পুরসভার অনুষ্ঠানে মমতার ভ্রাতৃবধূ কাজরী, মঞ্চে ফিরহাদ-সহ একাধিক TMC নেতা
আজ তক | ১৬ জুন ২০২৬
Suvendu Adhikary Meeting With TMC Leaders: কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে এবার জোর জল্পনা শুরু হল রাজনৈতিক মহলে। সম্প্রতি পুরভবনের এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশে একই মঞ্চে দেখা গেল তাঁকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা কি তবে এবার দলবদল করতে চলেছেন তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে সর্বত্র।
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর এই প্রথম কলকাতা পৌরসংস্থায় পা রাখলেন। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর সেই মেগা সফরের প্রস্তুতি যাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সারে পুরসভা সেই উদ্দেশ্যেই বর্তমান কাউন্সিলরদের নিয়ে এই বিশেষ সভার ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী তৃণমূল বোর্ডের বহু কাউন্সিলর। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদেরও যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী এই প্রস্তুতি বৈঠকে শামিল করেছেন তার ভূয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছে বহু কাউন্সিলরের গলায়।
পুরভবনের এই অনুষ্ঠানে মূল মঞ্চে বিজেপি সরকারের দুই মন্ত্রীর পাশেই বসা ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। রাজ্যের পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর ঠিক পাশেই আসন গ্রহণ করেছিলেন তিনি। সেই এক লাইনেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং এবং তাপস রায়, অগ্নিমিত্রা পাল ও ইন্দ্রনীল খাঁর মতো প্রথম সারির একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। একই মঞ্চে দেখা গিয়েছে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদ মালা রায়কেও। কলকাতা পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন মালা রায় বর্তমানে ৮৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে রয়েছেন।
কয়েক দিন আগেই কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন চার বারের তৃণমূল বিধায়ক তথা ৬৭ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান নেতা ফিরহাদ হাকিম। কলকাতা বন্দর এলাকার এই বিধায়ক পদত্যাগ করার সময় জানিয়েছিলেন যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি আর আগের মতো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছিলেন না। পদের অমর্যাদা এড়াতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং যিনি নতুন দায়িত্ব নেবেন তাঁর প্রতি আগাম শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে জোরালো আর্জি জানিয়েছেন ফিরহাদ। সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।