এই সময় বোলপুর: বাড়ি তৈরির জন্য গরিব মানুষকে সস্তায় বালি দেওয়ার কাজ শুরু হবে বীরভূম থেকে, স্পষ্ট জানালেন সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক ও রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, এই বালি বণ্টন মডেল শুধু রাজ্যে নয়, দেশের মধ্যে নজির গড়বে। প্রসঙ্গত, বীরভূমে পাথর খাদানগুলি থেকে ইতিমধ্যেই রাজস্ব আদায় শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
এ বার বৈধ বালিঘাটগুলি চিহ্নিত করে রাজস্ব আদায় করবে সরকার। প্রশাসন মনে করছে, এর ফলে বালি পাচার বন্ধ হবে, সঙ্গে দামও কমবে। সোমবার থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে 'জনকল্যাণ শিবির'। এ দিন কঙ্কালীতলা, বোলপুর ডাকবাংলো মাঠের শিবির পরিদর্শন করেন জগন্নাথ। সঙ্গে ছিলেন জেলাশাসক ধবল জৈন ও বোলপুর মহকুমাশাসক অনিমেষকান্তি মান্না-সহ সরকারি আধিকারিকরা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, 'জেলাশাসকের নেতৃত্বে পাথর খাদান থেকে আমরা রাজস্ব আদায় শুরু করেছি। এর পরে বালি ধরছি। পুরো প্রজেক্ট তৈরি রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নীতিগত ভাবে সাড়াও দিয়েছেন।' তাঁর সংযোজন, 'গরিব মানুষের বাড়ি তৈরির জন্য সস্তায় বালি দেওয়ার যে কথা আমার বলেছিলাম, সেটা বীরভূমে প্রথম কার্যকর করেই ছাড়ব। কোনও বেআইনি বালিরঘাট চলবে না। বৈধ ঘাটের মধ্যেও অবৈধ কার্যকলাপ হচ্ছে কি না তাও দেখা হবে।'
উল্লেখ্য, বীরভূমে রমরমিয়ে চলত বেআইনি পাথর খাদান। অভিযোগ, সেগুলি থেকে দেদার টাকা তুলেছেন রাজ্যের পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ পাথর কারবারি টুলু মণ্ডল। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে খাদান থেকে পাথরবোঝাই লরি, ট্রাক থেকে সরকারি ভাবে রাজস্ব আদায় শুরু হয়েছে। প্রতিদিন কমপক্ষে তিন কোটি টাকা রাজস্ব উঠছে বলে দাবি। সেই পথে হেঁটে এ বার জেলায় বেআইনি বালিঘাটগুলিতে লাগাম টানতে চলেছে প্রশাসন।