মহেঞ্জোদরোর ড্যান্সিং মূর্তির ছবি পাঠ্যবইয়ে ‘ঢাকা’
বর্তমান | ১৬ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মোদি সরকারের বিরুদ্ধে একাধিকবার শিক্ষায় গেরুয়াকরণের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময় বারবার পাঠ্যপুস্তক বিতর্কে জড়িয়েছে শিক্ষামন্ত্রকের আওতাধীন এনসিইআরটি। এবার সরাসরি তথ্য বিকৃতির অভিযোগ উঠল মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। ‘অনাবৃত’— কার্যত এই কারণ দেখিয়ে পাঠ্যবইয়ে ঢেকে দেওয়া হল সিন্ধু সভ্যতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার নৃত্যরতা মহিলার ব্রোঞ্চের মূর্তির ছবির অংশবিশেষ! নবম শ্রেণির আর্টস পাঠ্যপুস্তক ‘মধুরিমা’য় এমন বিকৃতি ঘটিয়েছে এনসিইআরটি। স্বাভাবিকভাবেই এনসিইআরটির এহেন পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচনায় সরব হয়েছেন ইতিহাসবিদদের একটি বড়ো অংশও। তবে বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে এনসিইআরটি। ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের অধিকর্তা দীনেশ সাকলানি জানিয়েছেন, ‘ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। মূল ছবিই ব্যবহার করা হবে বইয়ে। ডিজিটাল ভার্সনে অবিলম্বে ছবি পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। পাঠ্যপুস্তকের সংশোধিত ভার্সনে মূল ছবিই প্রকাশ করা হবে।’
শিক্ষাবিদ এবং ঐতিহাসিকদের বড়ো অংশের দাবি, ওই মূর্তি সিন্ধু সভ্যতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। প্রায় চার হাজার বছর আগে মহেঞ্জোদরোতে ব্রোঞ্জ ধাতুর ব্যবহার ছিল এবং বাসিন্দারা শিল্পকর্মে রীতিমতো নিপুণ ছিলেন, ওই মূর্তি মূলত তারই সাক্ষ্য বহন করছে। পাশাপাশি তৎকালীন সভ্যতার আর্থ-সামাজিক চিত্র এবং নারীদের অবস্থানেরও কিছুটা আভাস ওই মূর্তিতে পাওয়া যায়। এর উচ্চতা ১০ সেন্টিমিটারের কিছু বেশি। শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহলের অভিযোগ, ঐতিহাসিক তাৎপর্যসম্পন্ন ওই অনাবৃত মূর্তির অংশবিশেষ ঢেকে দিয়ে আদতে ইতিহাস বিকৃত করেছে এনসিইআরটি। কারণ এর ফলে ওই সভ্যতার সুনিপুণ শিল্পকলার একটি বড়ো অংশই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কাছে অধরা থেকে যাবে।