ভূপেন্দ্র যাদবের বাংলো থেকেই চলবে ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূলের উপর ‘নজরদারি’, আগামী দিনে জোড়াফুল প্রতীক দাবি করব: সুদীপ
বর্তমান | ১৬ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’র (এনসিপিআই) সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ এমপিরা। সেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এনসিপিআই দলের তরফে সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগতও জানানো হয়েছে। তবে ‘বিদ্রোহী’ সেই তৃণমূল ‘প্রেশার ব্লক’-এর নতুন ঠিকানা থাকছে সেই নয়াদিল্লির ৯, মতিলাল নেহরু মার্গই! অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সরকারি বাসভবন। বিজেপির শীর্ষ সূত্রের খবর, বঙ্গ বিজয় কিংবা তৃণমূল ভাঙাতেই শেষ হচ্ছে না রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচনি পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্রর ‘অ্যাসাইনমেন্ট’। বাংলার তামাম দলীয় সংগঠনের উপর তাঁকে একটানা নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির পাশাপাশি ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূলও থাকছে সেই সংগঠনের আওতায়! নিয়মিতভাবে ভূপেন্দ্র যাদবকে রিপোর্ট করতে হবে বিজেপির অন্যতম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা দলের পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসলকে। বিজেপির শীর্ষ সূত্রেই এখবর জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রাজ্য রাজনীতির এমন গুরুত্বপূর্ণ পালাবদলের প্রেক্ষাপটে বঙ্গ বিজেপিতেও সম্পূর্ণ নতুন ‘পাওয়ার ব্লক’ তৈরি হতে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই এ নিয়ে চর্চা একেবারে তুঙ্গে।
এরই মধ্যে খবর ছড়ায়, বিক্ষুব্ধদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে শীঘ্রই রাষ্ট্রমন্ত্রী করা হবে। যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সদ্য ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দেওয়া সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘অমিত শাহ, ভূপেন্দ্র যাদব, কারও সঙ্গেই মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়া বা আমাদের এই ব্লকের কে নেতা বা নেত্রী হবেন, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র কথা হয়নি। শুধু ঠিক হয়েছে, আমরা এই ২০ জন আপাতত অন্য একটি দলের সঙ্গে মিশে যাব। আর স্পিকারের সঙ্গে আলোচনায় ওম বিড়লা জানিয়েছেন, সংসদ ভবনে এনসিপিআইয়ের একটি দলীয় অফিস ঘর দেওয়া হবে। লোকসভার অন্দরে পৃথক একটি ব্লকে বসার ব্যবস্থা হবে। আমাদের ২০ জনের মধ্যে ঐক্য ভাঙার চেষ্টা চলছে। তবে পারবে না। যারা এই চেষ্টা করছেন, তাদের জানিয়ে রাখি, আপাতত এনসিপিআইতে যোগ দিলেও আগামী দিনে তৃণমূলের প্রতীক দাবি করব। আদালতে এ ব্যাপারে লড়াই হবে। জুলাই মাসে সংসদ সরগরম হবে।’
জানা গিয়েছে, এনসিপিআইতে ‘এসকেপ রুট’ প্রধানত ভূপেন্দ্র যাদবেরই সিদ্ধান্ত! তবে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বাংলায় বিজেপির সহকারী পর্যবেক্ষক বিপ্লব দেবের সঙ্গে আলোচনা করেই এই দলটিকে বেছে নেওয়া হয়। তবে গোটা বিষয় চূড়ান্ত করার আগে সংগতভাবেই সবুজ সংকেত নিতে হয়েছে মোদি সরকারের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক নেতা জানিয়েছেন, ‘ভূপেন্দ্র যাদব অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার মানুষ। তাই এসব বিষয়ে তাঁর উপরই ভরসা ছিল বেশি। আপাতত তাঁরই প্রত্যক্ষ নজরদারিতে যাবতীয় সাংগঠনিক কাজ চলবে। তেমনই জানানো হয়েছে।’
বিক্ষুব্ধ ‘টি-২০’ বা ‘টিম ২০’ তৃণমূলিদের এনসিপিআইতে যোগদান মসৃণ করতে সোমবার থেকেই কাজে নেমে পড়েছে লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার অফিস। পুরানো নানা নথি-আদালতের রায় ঘেঁটে দেখা হচ্ছে। ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদরাও পিছিয়ে নেই। এদিন দফায় দফায় আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, সংবিধানের টেনথ শিডিউলের প্যারাগ্রাফ চার’কে সামনে রেখে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদরা। সেই কারণে শিবসেনা ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির রায় নিয়ে মাথা ঘামানো হবে না।