• ভারতের বেকারত্ব ১১ মাসে সর্বাধিক
    বর্তমান | ১৬ জুন ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: উদ্বেগ বাড়িয়ে মোদির ভারতে ফের বাড়ল বেকারত্বের হার। সোমবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসে দেশের বেকারত্বের হার ছিল ৫.৫ শতাংশ। গত ১১ মাসে সর্বাধিক। এপ্রিলের পরিসংখ্যানে এই হার ছিল ৫.২ শতাংশ। সমীক্ষা বলছে, মূলত গ্রামীণ ক্ষেত্রে ধাক্কা খেয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। এর জেরেই মে মাসে মাথা তুলেছে বেকারত্বের হার। শহরেও বেকারত্বের হার এপ্রিলের ৪.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫.১ শতাংশ। 

    পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ভারতেও যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল, তাতে দেশজুড়ে বন্ধ হয়েছে একের পর এক কারখানা। ফলে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। সেইসঙ্গে ছিল পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের ভোট। এই প্রেক্ষাপট অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানে ধাক্কা দিয়েছে। জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস (এনএসও) পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভের (পিএলএফএস) যে রিপোর্ট সামনে এনেছে, তাতেই ফুটে উঠছে বেকারত্বের এই সংকট। তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও মে মাসে কাজের চাহিদা আগের মাসের তুলনায় ২ শতাংশ কমেছে। অথচ, দেশের অন্যতম বড়ো সংগঠিত কর্মসংস্থানের কেন্দ্রই হল তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্র। অর্থাৎ, শুধু অসংগঠিত নয়, ধাক্কা খেয়েছে সংগঠিত সেক্টরও। সেই আঘাত সবচেয়ে বেশি পড়েছে পুরুষদের উপর। পিএলএফএসের রিপোর্ট বলছে, গ্রামাঞ্চলে পুরুষ বেকারত্বের হার এপ্রিলের ৪.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫.২ শতাংশ। শহরাঞ্চলে তা অপরিবর্তিত—৫.৯ শতাংশ। সেই গ্রাফ নীচের দিকে যাওয়া থেকে কিছুটা বাঁচিয়েছেন মহিলারা। শহরে মহিলাদের বেকারত্বের হার ৮.৫ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৮.২ শতাংশ। সেও এক বছরে সর্বাধিক। গ্রামীণ এলাকায় অবশ্য তা সামান্য বেড়েছে। ৫.৪ থেকে ৫.৬ শতাংশ। 

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই ‘সংযত’ জীবনযাপনের দিকে জোর দিয়ে রেখেছেন। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং কার্যত ‘সংকটজনক’ পরিস্থিতিতে ধাক্কা খেয়েছে ছোটোখাটো উৎপাদন ক্ষেত্রও। ফলে যে শ্রমজীবী মানুষরা এই সেক্টরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তারা কাজ হারিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এমন যুদ্ধ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে? এবং তারপরও কি সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের হাল ফিরবে? না ফিরলে কিন্তু বেকার সংখ্যা দেশে বাড়বেই। 
  • Link to this news (বর্তমান)