শ্রীকান্ত পড়্যা, রেয়াপাড়া (নন্দীগ্রাম): রাজ্যজুড়ে চলা ‘মব জাস্টিস’-এর বিরুদ্ধে এবার সরব হলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নন্দীগ্রামের সভা থেকে তাঁর সতর্কবার্তা—‘সরকারের উপর ভরসা রাখুন। কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নেবেন না।’
রাজ্যে পালাবদলের পর পূর্বতন তৃণমূল সরকারের একাধিক নেতা, মন্ত্রী, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি গ্রেপ্তার হচ্ছেন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুর্নীতির, সরকারি ত্রাণসামগ্রী নিজেদের হেফাজতে রেখে দেওয়া। কেউ আবার অভিযুক্ত একুশের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসে। ধরা পড়লেই আছড়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ। ‘মব জাস্টিস’-এর নামে চলছে ডিম নিক্ষেপ, মারধর। আবার কোথাও পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনাও ঘটছে। স্বাভাবিকভাবেই আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি যে উদ্বিগ্ন, তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া শিবমন্দির ময়দানের সভায় তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে কিছু ছবি আপনারা দেখতে পেয়েছেন। আগামীতে বাকিটা দেখবেন। একটাই অনুরোধ, আপনারা আমার উপর, দলের উপর ভরসা রেখেছেন। সরকারের উপরও ভরসা রাখুন। কেউ হাতে আইন তুলে নেবেন না। গুণ্ডা, খুনি, ধর্ষক, তোলাবাজদের আইন মোতাবেক শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী করে দেখাবে।’
এদিন ওই সভা থেকেই রাজ্যব্যাপী তিনদিনের জনকল্যাণ শিবিরের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিবির থেকে রাজ্যের মানুষকে ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা গ্রহণের আবেদন জানান তিনি। পাশাপাশি, পাঁচ সপ্তাহের নতুন সরকারের নানা উদ্যোগ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘স্বচ্ছতা বজায় রেখে সরকারি নিয়োগ হবে। সুপারিশ এবং খাতাবদল করে চাকরির ঘটনা অতীত। আগামীদিনে যাঁরা চাকরির পরীক্ষায় বসবেন, তাঁরা ওএমআরের কার্বন কপি বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন। মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়া হবে। অ্যাকাডেমিকের নম্বরও বিবেচনায় আনব। সংরক্ষণের নিয়ম মেনে নিয়োগ হবে।’
ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল প্রসঙ্গে এদিন একশো দিনের কাজ শুরু বিষয়টি তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ১০০ দিনের কাজ শুরু করে দিয়েছি। শুধুমাত্র জুন মাসে ২০ দিন কাজের জন্য কেন্দ্র ৭০০ কোটি টাকা দিয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে বিকশিত ভারত জি-রাম-জি নতুন প্রকল্পে ১২৫ দিনের কাজ হবে। এজন্য ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মতো মা-বোনেদের মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনায় ৭৯ লক্ষ অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে আবাস যোজনার সার্ভে শেষ হচ্ছে। এতদিন যাঁরা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁরা নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।’
রাজ্যে বেহাল রাস্তাঘাট সংস্কার নিয়েও তিনি যে সদর্থক ভূমিক নিয়ে চলছেন, তাও এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় কেন্দ্র ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। তারমধ্যে এক হাজার কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছে। সেই টাকায় গ্রামীণ এলাকার ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট মেরামত হবে। জল জীবন মিশন প্রকল্পে প্রত্যেকের বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে। কেন্দ্রের সঙ্গে এনিয়ে ৩৯ হাজার কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘রাজ্যের ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবারে মোট সাড়ে ৬ কোটি মানুষ আয়ুষ্মান ভারত স্কিমে যুক্ত হচ্ছেন। জুলাই মাস থেকে তাঁরা কার্ড পাবেন।’ একই সঙ্গে মঠ-মন্দির নতুন করে সাজিয়ে তুলতে গুচ্ছের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।